নাজিব রাজাকের বাড়িতে আবারো তল্লাশি, দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব

Img

মালেশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাড়িতে আবারো তল্লাশি চালিয়েছে পুুলিশ। শুক্রবার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ কয়েকটি হাতব্যাগ জব্দ করা হয়। বহুল আলোচিত ১-এমডিবি দুর্নীতি মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালায় পুলিশ।মালেশিয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক অমর সিং বলেন, নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ঠিক কি পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে তা আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না। কেননা আমরা ব্যাগভর্তি জুয়েলারি জব্দ করেছি।তবে এর পরিমাণ অনেক বেশি। এর আগে বৃহস্পতিবার ভোররাতে নাজিব রাজাকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তখন বাড়িটি থেকে ট্রাকে করে  কয়েকটি নীল রংয়েল বাক্স নিয়ে যায় পুলিশ।এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডাতুকে সেরি নাজিব রাজাককে আগামী সপ্তাহে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এমএসিসি) কাছে মঙ্গলবার (মে ২২) এমএসিসি সদর দফতরে উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দিয়ে নজিবকে আহ্বান করা হয়েছে।এদিকে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ক্ষমতাসীন জোটের নেতা আনোয়ার ইব্রাহীম বলেছেন, দ্রুতই নাজিবকে জেলে পাঠানো হতে পারে। সব মিলিয়ে নাজিবের জেলে যাওয়ার বিষয়টি এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। 

পূর্ববর্তী সংবাদ

মাকে তাড়িয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে।

নিজের মাকে বের করে দিয়ে বাড়ি দখল করেছেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এমন অভিযোগ করেছেন তার গর্ভধারিণী মা। রাজধানীর উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ। দখল হওয়া বাড়ি উদ্ধারের জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেছেন তুরিন আফরোজের আপন ছোটভাই শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির। মামলাটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন শিশির ও তুরিন আফরোজের মা শামসুন নাহার। তবে বাড়িটি নিজের দাবি করে তুরিন আফরোজও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একই আদালতে। আগামী ৭ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার উত্তরার বাড়িটি ছাড়াও গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকাতেও পৈতৃক সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ করেছেন তার মা শামসুন নাহার তসলিম।

এই প্রেক্ষাপটে নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে পত্র দিয়েছেন তুরিনের মা। মেয়ে তুরিন জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে এমনটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বরাবর গত বছরের ৭ জুলাই অভিযোগ দিয়েছেন শামসুন নাহার। গত ১ জানুয়ারি ঢাকার প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে দায়ের করা (মামলা নম্বর ১৩-২০১৮) মামলায় বাদি শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২ মার্চ পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মা শামসুন নাহার এবং অন্য ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। নিজেকে বাড়ির মালিক দাবি করে তুরিন বাড়ি ও জমির দলিলপত্রও দখলে নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ভাই শিশির সম্পত্তিতে আসতে চাইলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হবে বলেও মাকে হুমকি দেন বিবাদি তুরিন।

ঘটনার পর থেকেই মা শামসুন নাহার আর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ সড়কের ১৫ নম্বরের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। প্রবেশ করতে চাইলে ভাই শিশিরকেও বাড়িতে ঢুকতে দেননি তুরিন, এমন অভিযোগ করেছেন মা শামসুন নাহার। বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয়, মামলা পরিচালনাকারী শামসুন নাহারের সাথে।

তিনি বলেন, ‘আমার সব সুখ খানখান করে দিয়েছে পেটের মেয়ে তুরিন। ৫ তলা বিশিষ্ট দুই ইউনিটের বাড়িটি তুরিন দখলে নিয়েছে। তিনি জানান, তার স্বামী অর্থাৎ তুরিনের বাবা হাজী হাফেজ ইয়ার মোহাম্মদ তরফদারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বাড়িটি নিজ স্ত্রীর নামে ক্রয় করেন। পরে শামসুন নাহার ১৯৯৭ সালে ছেলের নামে বাড়িটি লিখে দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্বামী (তুরিন-শিশিরের বাবা) মারা যাওয়ার দুই মাস পরেই পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তুরিন। বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদেরও বের করে দেয়া হয়। নিজের অভিজাত বাড়ি থাকার পরও আজ আমি ফেরারি। আজ এ আত্মীয়ের বাসায় তো কাল আরেক আত্মীয়ের বাসায় রাত কাটছে। কানাডা প্রবাসী ছেলেও তুরিনের ভয়ে দেশে আসতে পারছে না।’ ‘কথায় কথায় আমার মেয়ে তুরিন র্যাব ডিজি, পুলিশ, গোয়েন্দাদের ভয় দেখায়। জীবনের শেষ বেলায় বড়ই অসহায় লাগছে। নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেদন করেছি। ব্যক্তি আর সংসারজীবনে উচ্ছৃঙ্খল তুরিন আজ আমাদের প্রাণনাশের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এমনটি বলছিলেন তুরিনের মা। অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের সাথে।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে আমার জন্মদাত্রী মা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনতে পারেন। আজকের এই আমি জীবনে যতটুকু অর্জন করেছি তার পেছনে এক বিশাল অবদান রয়েছে আমার মা আর বাবার। আমি আমার মরহুম বাবা এবং বিধবা মায়ের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’ শাহনওয়াজ আহমেদ শিশিরের দায়ের করা মামলার আইনজীবী মঈনুল হাসান লিপন বলেন, মামলার নিষ্পত্তিতে আমরা বিজয়ী হবো। জমি এবং বাড়ির সব দলিল বাদি শিশিরের পক্ষে। রাজউকের বরাদ্দ দেয়া প্লটে নির্মিত বাড়ি শামসুন নাহার তার ছেলেকে দান করেছেন এবং এর পক্ষে সব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।’ -নয়াদিগন্ত

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার