২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসার সামনে খুন করা হয় মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে।

মামলার তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে লালখান বাজারের প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’য়ের নির্দেশে সুদীপ্তকে খুন করা হয়েছে। প্রথমে সদরঘাট থানা তদন্ত করে। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।

সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে সুদীপ্তর পিতা মেঘনাদ বিশ্বাস ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

চিঠিতে লেখেন, ‘আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, হত্যাকাণ্ডের ভিডিও থাকা সত্ত্বেও খুনের নির্দেশদাতা লালখান বাজারের সেই বড় ভাই আইনের আওতায় আসেননি।’ তিনি চিঠি লেখার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

গত ২৯ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আরেক বন্দি রিপন নাথের উপর্যুপুরি আঘাতে মারা যান অমিত মুহুরী। এ খুনের ঘটনায়ও অমিতের রাজনৈতিক এক বড় ভাইয়ের নাম উঠে এসেছে তার পিতা ও ভাইয়ের বক্তব্যে। অমিতের পিতার দাবি, হত্যার শিকার হতে পারে এমনটি আগেই আঁচ করতে পেরেছিল আলোচিত সন্ত্রাসী অমিত। তিনি বলেন, জেলখানায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

গতকাল রিপন নাথ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি একা খুন করেছেন বলে দাবি করেছেন, যা বিশ্বাস করতে চায় না অমিতের পরিবার। এর মধ্যে ফেইসবুকে অমিতের ছোট ভাই অনিক মুহুরীর একটি ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করে অমিতের এক সময়কার রাজনৈতিক বড় ভাইকে দোষারোপ করেছেন।

২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কদমতলী এলাকায় আনন্দ র‌্যালি বের করে নগর আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। র‌্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কদমতলীর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় যুবদল নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদকে।

খুনের তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, মাদারবাড়ী এলাকায় ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলোতে ভাড়ায় পরিবহন সরবরাহ করে বছরে প্রায় তিনশ কোটি টাকার কমিশন লেনদেন হয়। এ কমিশন বাণিজ্যে নজর পড়ে সিআরবি কেন্দ্রিক একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের। গ্রুপটির হয়ে এ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে মাদারবাড়ীর কিছু সন্ত্রাসী। তাদের রাজনৈতিক বড় ভাই হিসেবে নাম আসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক (বহিষ্কৃত) সাইফুল আলম লিমনের। তার নির্দেশে হারুনকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন লিমন।

নগরীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। নেপথ্যে বড় ভাইদের নাম উঠে আসছে। তবে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকায় বড় ভাইদের পুলিশ ধরছে না বলে অভিযোগ সংশ্নিষ্টদের।

তবে, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যিনি অপরাধ করছেন এবং যিনি নির্দেশ দিচ্ছেন উভয়েই আমাদের কাছে সমান। বড় ভাই-ছোট ভাই কোনো বিষয় নয়। যে অপরাধ করবে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ এসব কথিত বড় ভাইয়ের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। প্রতিটি থানাকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।