‘প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশেও’ প্রবৃদ্ধি অর্জন গ্রামীণফোনের

Img

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গ্রামীণফোন মোট ১০ হাজার ৭৫০ কেটি টাকা আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এই সময়ে অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

আজ গ্রামীণফোন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি চার লাখ নতুন গ্রাহক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করেছে, যা ২০১৮ সালের শেষ প্রান্তিকের থেকে ৬ শতাংশ বেশি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে নয় লাখ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছে।
 
গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, প্রতিকূল নিয়ন্ত্রকমূলক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আমরা তৃতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জন করেছি। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বা এনওসি বন্ধের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গ্রামীণফোন দেশের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রাহককে তার নেটওয়ার্কে আওতায় মোবাইল সেবা দিচ্ছে।

‘৬৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী আমাদের ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। ভয়েস সেবা থেকে আমাদের প্রাপ্ত আয় বাড়ছে এবং এর পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারসহ ইন্টারনেটভিত্তিক আয় বৃদ্ধিও পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের গ্রাহক সংখ্যার ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।’
 
তিনি আরও বলেন, আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থরক্ষা, গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়া এবং দেশজুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এটি ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
 
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ মার্জিনসহ তৃতীয় প্রান্তিকে কর পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৭৩০ কোটি টাকা। এই সময়কালের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫ দশমিক ৩৮ টাকা।
 
গ্রামীণফোনের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন উল্লেখযোগ্য মার্জিনসহ উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক ফল অর্জন করেছে। বাংলাদেশের জনগণের জন্য যথাযথ মোবাইলসেবা নিশ্চিত করতে আমরা মানসম্মত গ্রাহক বাড়ার পাশাপাশি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও পরিচালন ব্যবস্থা তৈরি করতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবো।
 
তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক কাভারেজের জন্য ২১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এনওসি দেওয়া বন্ধের কারণে পরিকল্পনার তুলনায় এ বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে। নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৮১২টি নতুন ফোরজি সাইট (টাওয়ার) চালু করেছে, যার ফলে মোট সাইটের সংখ্যা এখন ১৬ হাজার ৩৮৯টি।
 
কর, ভ্যাট, ফিস, ফোরজি লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দের ফি বাবদ গ্রামীণফোন বছরের প্রথম নয় মাসে সর্বমোট ছয় হাজার ১৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের ৫৭ শতাংশ।

পূর্ববর্তী সংবাদ

ভোলায় মুসল্লিদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিল প্রশাসন

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে রণক্ষেত্রে ঘটনায় মুসল্লিদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন।

আজ বেলা ১১টায় দাবি মেনে নেয়ায় ‘সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়া হয়েছে। দাবিগুলো হলো- ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর, আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন ও সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান জানান, আমরা শান্তির্পূণ পরিবেশে আন্দোলন যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন যোক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ায় আজকের ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

এর আগে রোববার রাতে ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনের এমপি আলী আজম মুকুল, বরিশাল পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. এনামুল হকসহ বিভাগীয় জেলার কর্মকর্তারা ‘তৌহিদি জনতা’র নেতাদের সঙ্গে বোরহানউদ্দিন থানায় মতবিনিময় সভায় বসেন। সেখানে নেতারা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

ছয় দফা দাবি হলো:

১. জেলা ও থানা থেকে এসপি এবং ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে

২. ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দিতে হবে

৩. আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে

৪. নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে

৫. অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র শুভর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং

৬. গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়া কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যার মামলা নং-১৮, তারিখ: ২০-১০-২০১৯।

ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ সাব্বির হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো উপজেলায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসাধীন। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কাউসার জানান, ফেসবুকে এ কটূক্তির ঘটনায় হিন্দু বিপ্লব চন্দ্র শুভ, মো. শাকিব ও লিমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নং ১৭) দেয়া হয়। এ মামলায় তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ শেষে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে গুলি, টিয়ারশেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

সংঘর্ষে আহত ৪৫ জনকে ভোলা সদর ও ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের টহল জোরদার করার পর বিকালেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার