‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান’ গ্রন্থের প্রকাশ

Img
প্রবাসীর দিগন্ত

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান এর সম্পাদনায় ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের আ ক মু গিয়াসউদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়ামে ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, একসময় বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা চলছিল। সব ধর্মের সবাই এগিয়ে এসেছে বলেই আমরা জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের গুরুরা এগিয়ে এসেছিলেন বলেই সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে পেরেছি। এ কারণেই আমরা জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

প্রকাশনা উৎসবে একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান একজন সদালাপি ও প্রচার বিমুখ ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফার্মগেটের কঠিন ব্যারিকেডের নেতৃত্বে ছিলেন আসাদুজ্জামান খান। সোনার বাংলা সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রয়াসের সঙ্গে কামাল ভাই হচ্ছেন একজন যোগ্য কর্মী।’

পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মাদক, চরমপন্থি ও জঙ্গি দমনসহ দেশের প্রত্যেকটি ঘটনায় মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অত্যন্ত ধীর স্থিরভাবে আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বৈঠকেও তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার পরিচয় দিচ্ছেন। স্যারকে  যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি,  যতই দেখছি ততই বিস্মৃত হচ্ছি। আমার সবচেয়ে অবাক লাগে তিনি একটা মানুষ যে সবার ফোন ধরেন। তাও আবার এক কলে।’

কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান ইতিহাসের মানব সন্তান। তাঁর কর্মের কারণে ইতিহাসের মানুষ হয়ে বেঁচে থাকবেন বাঙালির মাঝে হাজার বছর ধরে।’

অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অবঃ) এ আর খান তার বক্তব্যে বলেন, ‘একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত। তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া প্রধানমন্ত্রীর একটি সঠিক সিদ্ধান্ত।’

সাবেক ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমি স্যারের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। উনার সঙ্গে অনেক স্মৃতি আছে আমার। তিনি শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে নন। প্রশাসক হিসেবেও ছিলেন অদ্বিতীয়। বাংলাদেশে ইতিহাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নেতিবাচক সমালোচনা হয়নি এমন নেই। তবে তিনি ব্যতিক্রম। তবে তার একটা দুর্বল জায়গা হল, তিনি প্রচার বিমুখ।

র‌্যাবের ডিজি ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) বলেন, ৬৯ বয়সের এ মানুষ সর্ম্পকে আমি ৬৯ মিনিটেও বলে শেষ করতে পারবো না। তিনি এত বিনম্র মানুষ, অসীম ধৈয্যের অধিকারী, এটা অভূতপূর্ব। তার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা আমাকে বেশি আকর্ষণ করে। 

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম, আমি তখন চট্টগ্রামের ডিআইজি ছিলাম। জঙ্গি বিরোধী অভিযানে সারারাত সীতাকুণ্ডে। রাত অনুমানিক ১টার সময় স্যার ফোন করে বললেন, অভিযানের কি অবস্থা। আমি বললাম স্যার একটি বাড়িতে এখনও ২২ জন জিম্মি আছেন। স্যার বললেন সকালে অভিযানে যান। আমি সকালে অভিযানে যাবার আগে স্যারকে ফোন করলাম। স্যার আমাকে বাবার মতো করে বললেন, সাবধানে থাকবেন, নিজের জীবনের খেয়াল রাখবেন। এটাই আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারি কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বটি তাঁর মত একজন যোগ্য লোকের নিকট দিয়েছেন।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, , বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রবাসীর দিগন্তের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরহাদ আমির, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. বইটি প্রকাশ করেছে।  এছাড়াও আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে তিনি কেক কেটে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার