‘আমরা বাবাকে চাই, তিন দিন ধরে না খেয়ে আছি’

Img

পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

গত সোমবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে তিনদিন ধরে স্বামীর ঘরের সামনে দুই সন্তান নিয়ে বসে আছেন স্ত্রী রাহানি জান্নাত টুলু।

দুই শিশু কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, আমরা বাবাকে চাই। দীর্ঘ কয়েক মাস বাবা আমাদের খোঁজখবর নেন না। আমরা ফোন করলে বাবা ধরেন না। মেসেজ দিলে বাবা বলেন ডিস্টার্ব হয়। তিনদিন ধরে না খেয়ে আছি আমরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে বিলবিলাস গ্রামের ছত্তার মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের রাজ্জাক মাস্টারের মেয়ে রাহানি জান্নাতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দুই সন্তান হয়। ভালোই চলছিল সংসার। পাঁচ মাস আগে জান্নাতের বাবা রাজ্জাক মাস্টার মারা যান। এরপর স্ত্রীকে ভাইদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য নির্যাতন শুরু করেন সাইফুল। 

টাকা না পেয়ে সাইফুল স্ত্রীকে উকিল নোটিশ পাঠান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সালিস ডেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সালিসে উপস্থিত হননি সাইফুল। তখন পটুয়াখালী জজ আদালতে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করেন জান্নাত। তিন মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার অঙ্গীকারনামা আদালতে দিয়ে বাড়ি আসেন সাইফুল। কয়েকদিন পর ঢাকায় চলে যান। এরপর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

রাহানি জান্নাত কেঁদে কেঁদে বলেন, আমি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না। স্বামীকে নিয়ে এখানে থাকতে চাই। সোমবার সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী আদালতে গিয়েছিলাম। ফিরে দেখি ঘরে তালা। শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ি নেই। মোবাইলে কল দিলেও স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি ধরেননি। এ অবস্থায় তিনদিন ধরে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘরের সামনে রাত কাটাই। অনাহারে থাকায় দুই মেয়ে এবং আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমরা মরে গেলেও কোথাও যাব না।

এ বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলামের মোবাইলে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল দিলেও ধরেননি।

বাউফল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অনেকদিন ধরে তাদের মধ্যে সমস্যা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষের লোকজন ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার