২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে প্রাণ গেছে ৭২৯ শ্রমিকের

Img

বিদায়ী বছরে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের ৭২৩ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি ৩৪৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে পরিবহন খাতে। আর মৃত্যুর দিক থেকে নির্মাণ খাত দ্বিতীয় ও কৃষি খাতের অবস্থান তৃতীয়।

আজ শনিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জরিপের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)।

'বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মক্ষেত্র পরিস্থিতি বিষয়ে সংবাদপত্র ভিত্তিক বিলস জরিপ-২০২০' শীর্ষক জরিপটির ফল প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি ৩৪৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে পরিবহন বিভাগে। নির্মাণ বিভাগে  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে কৃষি বিভাগে। এছাড়া দিনমজুর ৪৯ জন, বিদ্যুৎ খাতের ৩৫ জন, মৎস্য খাতের ২৭ জন, স্টিল মিলের ১৫ জন, নৌপরিবহন খাতের ১৫ জন, অভিবাসী শ্রমিক ১৫ জন ও ১৪ জন মেকানিকের মৃত্যু হয়েছে এই সময়ে। অন্যান্য বিভাগে গতবছর মারা গেছেন আরো (ইট ভাটা, হকার, চাতাল, জাহাজ ভাঙা) আরো ৬০ জন শ্রমিক।

এছাড়া, ২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৪৩৩ জন শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে ৩৮৭ জন পুরুষ, ৪৬ জন নারী শ্রমিক। আহতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮ জন ছিলেন মৎস্য খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্মাণ খাতে ৪৯ জন শ্রমিক আহত হন। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ৪৮, পরিবহন খাতে ৪৭, জুতা কারখানায় ২০ জন, নৌপরিবহন খাতে ১৬ জন, তৈরি পোশাক শিল্পে ৩৭, জাহাজ ভাঙা শিল্পে ২৯, দিনমজুর ১৬, উৎপাদন শিল্পে ১৯ ও কৃষিতে ১০ জন শ্রমিক আহত হন। এর আগে ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৬৯৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছিল।

এর আগে ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ১২০০ শ্রমিকের। এর মধ্যে পুরুষ ছিলেন ১ হাজার ১৯৩ জন, নারী সাতজন। খাত অনুযায়ী ওই বছরেও সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটে পরিবহন খাতে ৫১৬ জন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুও ছিল ২০২০ সালের মতোই নির্মাণ খাতে (১৩৪ জন) ও কৃষি খাতে (১১৬ জন)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, আনোয়ার হোসাইন, আমিরুল হক আমিন, উপদেষ্টা নইমুল আহসান জুয়েল প্রমুখ। 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার