১২ জুলাই থেকে খুলছে হাফিজিয়া মাদরাসা

Img

করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা হাফিজিয়া মাদরাসা এবং হেফজখানার শিক্ষা কার্যক্রম আগামী ১২ জুলাই থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার।

বুধবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুমতির কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হাফেজিয়া মাদরাসা/হেফজখানাও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু কোরান মুখস্ত করার এসব প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন অধ্যাবসায়ের আবশ্যকতার কথা উল্লেখ করে এর কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে হাফেজিয়া মাদরাসা/হেফজখানার কার্যক্রম আগামী ১২ জুলাই থেকে চালু করার অনুমতি দেওয়া হলো।

পূর্ববর্তী সংবাদ

পাইকগাছায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণে বরাদ্ধের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিদ্যুৎ, রাস্তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি ও বাতাস হলে ঘর নড়ে। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় উঠান। এমন দুরাবস্থার মধ্যে বসবাস করছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চারটি আশ্রায়ণ প্রকল্পের (গুচ্ছ গ্রাম) ২৪০ টি পরিবার। আশ্রায়ণ প্রকল্পের(গুচ্ছ গ্রাম) বাসিন্দাদের অভিযোগ বরাদ্ধে অর্থ হরিলুট করা হয়েছে। প্রকল্পের তালিকায় বিদ্যুৎ,পানি,উন্নত যোগাযোগব্যবস্থাসহ সব মৌলিক সুবিধা থাকলেও তা বস্তবায়ন হয়নি আজও।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভুমি মন্ত্রণালয়ের অধীন আশ্রায়ণ প্রকল্প -২ আওতায় উপজেলার গদাইপুর, রাড়–লী,চাঁদখালী ও কপিলমুিন ইউনিয়নের ২৪০ গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে গদাইপুর ইউনিয়নের বাইশারাবাদ আশ্রায়ন প্রকল্পে (গুচ্ছ গ্রাম) ৮০ পরিবার ,চাঁদখালী ইউনিয়নের কাওয়ালি -২ প্রকল্পে ৫০ পরিবার,কাওয়ালি-৩ প্রকল্পে-৬০, ও কপিলমুনি ইউনিয়নের ধোনার দোনিয়া প্রকল্পে ৫০ পরিবার বসবাস করছে। প্রকল্পে ঘর,শৌচাগার নির্মাণ ও নলকুপ স্থাপনে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানাযায়। প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের জন্য ঘাট নির্মাণ, চলাচলের রাস্তা, পুকুর খনন, বৃক্ষরোপন,পরিবার প্রতি একটি করে পরিবেশবান্ধব চুলা, মাল্টিপারপাস হল নির্মাণের কথা ছিল।

কিন্তু তা করা হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর বাইরে মাটি ভরাট বাবদ প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন চাল-গমের বরাদ্দ ছাড় করা হয়েছে। সরেজমিন ২৭ জুন দেখা গেছে, ঘর নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করায় তা অল্পদিনের মধ্যে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। প্রতিটি ঘরের ভিটার মাটি সুবিধাভোগীদের নিজ খরচে ভরাট করতে হয়েছে। প্রকল্পে ২৪ টি গভীর নলকুপ বসানোর কথা থাকলেও তা বসানো হয়নি। দেওয়া হয়নি উন্নত চুলা। বাসিন্দাদের যাতায়াতে চলাচলের রাস্তা নেই। বৃক্ষরোপন করা হয়নি।

এ ছাড়া প্রকল্পের নকশায় পুকুরের ঘাট নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বাইশারাবাদ আশ্রায়ণ প্রকল্পের (গুচ্ছ গ্রাম) বাসিন্দা হাফিজুল সরদার বলেন, যেভাবে ঘরগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ,সেখানে বসবাস করা সম্ভব নয়। সালেহা নামে আরেক সুবিধাভোগী বলেন, আমার ঘরের প্রতিটি খুটিতে ফাটল ধরেছে। দরজা জানালাগুলো নড়বড়ে । সবচেয়ে বড় সমস্যা খাবার পানি আনতে তিন-চার-মাইল হাঁটতে হয়। কাওয়ালি-২ আশ্রায়ণ প্রকল্পের (গুচ্ছ গ্রাম) বাসিন্দা রোজিনা খাতুন বলেন,শুনেছি সরকার আমাগে বাস করার জন্য সব রকম সুবিধে দেছে। কিন্তু এখানে আইসে দেখি সবকিছুতেই অসুবিধে। একটা পুকুর আছে তার ঘাট নেই।

নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সদস্য থাকার কথা। তবে ওই সব এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানরা এ-সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তারা অভিযোগ করেন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ না করায় বেশির ভাগ অর্থ লুটপাট হয়েছে। গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান বলেন,আমার ইউনিয়নের বাইশারাবাদ আশ্রায়ণ প্রকল্পটি(গুচ্ছ গ্রাম) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই বাস্তবায়ন করেছেন। আমার কাছ থেকে কয়েকটি স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে মাত্র।

তবে এখন অনেক অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। কাওয়ালি-২ ও ৩ আশ্রায়ণ প্রকল্প (গুচ্ছ গ্রাম) দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে চাঁদখালী ইউনিয়নে। ওই ইউপির চেয়ারম্যান জোয়াদুর রসুল বাবু বলেন, প্রকল্প দুটি আমার ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এ সম্পর্কে আমাকে অবগত করেননি। শোনা যাচ্ছে আমার স্বাক্ষরে প্রকল্পের মাটি ভরাটের বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি।

এ সম্পর্কে কিছু জানি না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলিয়া সুকায়না বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এখনো সুবিধাভোগীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। 

প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, তিনি অসুস্থ। এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার