‘ হাদিয়া দেওয়ার কয়েকটি আদব’ শিরােনামে এমন কিছু আদব সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করছি, যেগুলাে মেনে না চলার কারণে হাদিয়ার স্বাদ এবং তার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্থাৎ, ভালােবাসা বৃদ্ধি পাওয়া হাতছাড়া হয়ে যায়। চলুন, আমরা এই সুন্নত আমলটি আদব মেনে পালন করি।

১. যাকে হাদিয়া দিবেন, গােপনে দিবেন। তারপর যাকে হাদিয়া দেওয়া হলাে তার সমীচীন হলাে, তা প্রকাশ করে দেওয়া। এখন অবস্থা তার উল্টা হয়ে গেছে যে, হাদিয়াদাতা প্রকাশ করার এবং গ্রহীতা গােপন করার চেষ্টা করে থাকে।

২. হাদিয়া যদি টাকা-পয়সা না হয়ে কোন দ্রব্য হয়, তাহলে যতদূর সম্ভব যাকে হাদিয়া দিবেন তার পছন্দ জেনে নিয়ে তার পছন্দনীয় জিনিস দিবে!

৩. আমরা অনেকেই হাদিয়া দিয়ে বা হাদিয়া দেওয়ার পূর্বে নিজের কোন উদ্দেশ্য ব্যক্ত করি। যা মোটেও সমীচিন নয়। এতে স্বার্থপরতার সন্দেহ হয়ে থাকে।

৪. হাদিয়ার পরিমাণ এত বেশী না হওয়া উচিত যে, যাকে হাদিয়া দেওয়া হবে তার মনের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। আর হাদিয়া যত কম হােক কেন ক্ষতি নেই। অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন লােকদের দৃষ্টি পরিমাণের উপর থাকে , ইখলাসের উপর থাকে। পরিমাণ বেশী হলে তাদের পক্ষ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫. যাকে হাদিয়া দেওয়া হচ্ছে, তিনি কোন কারণে তা ফিরিয়ে দিতে চাইলে তখন তা ফিরিয়ে নিবেন এবং ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ জেনে নিয়ে ভবিষ্যতে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। কিন্তু তখন নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করা ঠিক না। তবে যে কারণে ফিরিয়ে দিচ্ছে তা বাস্তবসম্মত না হলে তা অবাস্তব হওয়ার কথা সাথে সাথে অবগত করানােয় দোষ নেই, বরং উত্তম।

৬. যাকে হাদিয়া দিবেন তার নিকট নিজের নিষ্ঠা প্রমাণ না করা পর্যন্ত হাদিয়া দিবেন না।

৭. যথাসম্ভব রেলওয়ে পার্সেল যােগে হাদিয়া পাঠাবেন না। কারণ, এতে যাকে হাদিয়া দেওয়া হয় তার নানাপ্রকারের কষ্ট হয়ে থাকে।