হাতীবান্ধায় শ্যালকের বিরুদ্ধে বোন জামাই ও ভাগিনাকে পেটানোর অভিযোগ

Img

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ্য ছোট শ্যালককে দেখতে যাওয়ার পথে বোন জামাই ও ভাগিনাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বড় শ্যালক আবু তালেবের বিরুদ্ধে। আহত বাবা-ছেলে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় গত রোববার (২ মে) রাতে বোন জামাই সুমার আলী বাদী হয়ে বড় শ্যালক আবু তালেবকে প্রধান আসামী করে আরও ৬ জনের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে (২ মে) বিকেলে উপজেলার নিজ গড্ডিমারী গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার নিজ গড্ডিমারী গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত হারুন আর রশীদের ছেলে ও আহতের বড় শ্যালক আবু তালেব (৫০), আবু তালেবের ভাই ছাইদুল (৩৭) আবু তালেবের ছেলে বাবুল (২৭), মুকুল (২৫), মমিন (২৩) আবু তালেবের স্ত্রী খাদিজা (৪৫) এবং ছাইদুলের স্ত্রী পারুল বেগম (৩৩)।

আহতরা হলেন, উপজেলার একই এলাকার মৃত ময়েন শেখের ছেলে ও অভিযুক্ত আবু তালেবের বোন জামাই সুমার আলী (৫৫) ও তার ছেলে খোকা বকস (২২)।

জানা গেছে, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে আবু তালেব ও তার ছোট ভাই আবুল হোসেনের মাঝে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছে। সেই কলহের জেড়ে গত (১ মে) আবু তালেব ও আবুল হোসেনের ঝগড়া লাগে। এ সময় আবু তালেব ও তার ছেলেরা মিলে আবুল হোসেনকে মারধর করে। পরে আবুল হোসেনকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

তাই (২ মে) বিকেলে ছোট শ্যালক আবুল হোসেনকে দেখতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় বোন জামাই সুমার আলী ও তার ছেলে। এ সময় আবু তালেব, অপর এক ভাই ছাইদুল ও তাদের সন্তানরা সুমার আলীর পথ রোধ করে জানতে চায় তারা কোথায় যাচ্ছে। এ সময় সুমার আলী আবুল হোসেনকে দেখতে যাওয়ার কথা বলতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সুমার আলী ও তার ছেলেকে বাশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে সুমার আলীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুমার আলীর বড় শ্যালক আবু তালেব বলেন, বাবার রেখে যাওয়া জমি নিয়ে আমার সাথে ছোট ভাইয়ের দন্ধ। সুমার ছোট ভাই আবুলের পক্ষ নিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করেছে। সুমার ও তার ছেলেকে কোন মারধর করা হয়নি। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা মিথ্যা।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত সুমার আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে দন্ধ। ছোট শ্যালক হাসপাতালে ভর্তি। তাই তাকে আমি দেখতে যাইতেছিলাম। এতে বড় শ্যালক আবু তালেব ক্ষেপে যায়। সেও আমার স্ত্রীর ভাই আবুল হোসেনেও স্ত্রীর ভাই। আমি তো একক ভাবে কারো পক্ষ নিতে পারিনা। অসুস্থ্য শ্যালককে দেখতে চাওয়াটাই কি আমার অপরাধ?

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার