হাজী সেলিম কোথায়?

Img

পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালালেও তাঁর দেখা পায়নি র‌্যাব। হাজী সেলিমের ছেলের হাতে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মারধরের শিকার হওয়ার পর অভিযানে নামে র‌্যাব। তবে অভিযানে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষীকে আটক করা হলেও হাজী সেলিম ও তার স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি চিকিৎসকের কাছে গেছেন বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার বিকালে নয়তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে ‘হেফাজতে’ নেওয়া হয়। ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে অবৈধ অস্ত্র ও অবৈধ মাদক রাখার দায়ে এক বছর করে জেল দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ওই ভবন থেকে লাইসেন্সহীন একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৮টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, হাজী সেলিম বাড়িতে নেই। অভিযানের আগেই তিনি তার স্ত্রীসহ ডাক্তারখানায় গেছেন বলে জানা গেছে।
তবে কোন চিকিৎসকের কাছে গেছেন, তা জানাতে পারেননি র‌্যাব এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাজী সেলিমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া দেননি তিনি।
ইরফান সেলিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। হাজী সেলিম এবার তৃতীয় মেয়াদে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাজী সেলিম এরমধ্যে একবার বিদ্রোহী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। পুরান ঢাকার আলোচিত-সমালোচিত হাজী সেলিম বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই এলাকা থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আজ সোমবার ভোরে ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম নিজেই বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমসহ চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই গাড়িচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হাজি সেলিমপুত্র ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনই মেরে ফেলবো’। এরপর বের হয়ে ওয়াসিমকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান। তার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডির ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে অবৈধ অস্ত্র ও অবৈধ মাদক রাখার দায়ে এক বছর করে জেল দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার