হত্যা ও মৃতদেহ পোড়ানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজন শনাক্ত

Img

লালমনিরহাটের পুলিশ জানিয়েছে, পাটগ্রাম উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত কয়েকজনের নাম দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে তিনটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, মৃতদেহ পোড়ানোর কারণে দেহাবশেষ যেটুকু পুলিশ উদ্ধার করেছে, তার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই দেহাবশেষ শনিবার নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবারের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পাটগ্রামের পরিস্থিতি থমথমে। গোটা পাটগ্রাম উপজেলায় পুলিশ র‍্যাবের পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি মোতায়েন রয়েছে।

পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে পিটিয়ে হত্যা করে একজন ব্যক্তিকে। তারা নিহত ব্যক্তির মৃতদেহও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার পরদিন শুক্রবার স্থানীয় পুলিশ বলেছে, ঘটনায় অনেক মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও কিছু লোক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল-এমন তথ্য তারা পেয়েছে।

পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত বলেছেন, লোকজনের সাথে কথা বলে এবং ঘটনার ভিডিও দেখে পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তারা সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং সংখ্যা প্রকাশ করতে চান না।

"আমরা মোটামুটি শনাক্ত করতে পেরেছি। এখানে তো ধর্মীয় একটা সেন্টিমেন্ট সব সময়ই থাকে। যারা ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি করে, তারা এই সেন্টিমেন্টের সুযোগ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এরকম একটা কিছু আছে। এখন আমরা ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মোটামুটি কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সংখ্যাটা বলছি না।"

বুড়িমারীতে নিহত ব্যক্তির নাম আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন নবী। তার বাড়ি রংপুরে। তিনি রংপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যাণ্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। বছর খানেক সময় ধরে চাকরি না থাকায় দুই সন্তানের পিতা এই ব্যক্তি কিছুটা মানসিক সমস্যায় ছিলেন বলে তার পরিবার বলেছে।

 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার