দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিসংঘের আঞ্চলিক অফিসের সামনে অবস্থান করছেন বাংলাদেশিসহ অনেক দেশের অভিবাসীরা। তারা জাতিসংঘের অফিসের বিভিন্ন ফ্লোরে কম্বল নিয়ে এসে রাত যাপন করছেন।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে কেপটাউনের লং স্ট্রীটের গ্রীন মার্কেট এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘের অফিসে অভিবাসীদের ক্রমানয়ে ভিড় বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যে আফ্রিকা কন্টিনেন্টালের বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রায় হাজার খানেক লোক জড়ো হয়েছে।

তারা দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগের জন্য জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করে কেপটাউনের জাতিসংঘের অফিসে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি দক্ষিণ আফ্রিকা কোনভাবেই অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ নয়।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থানরত অভিবাসীদের তালিকা তৈরি করেছেন। অভিবাসন নীতির আলোকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাদেরকে আশ্রয় দিতে পারে। এ সংবাদ পুরো দ.আফ্রিকা ছড়িয়ে পড়লে ইতিমধ্যে অসংখ্য বাংলাদেশিসহ অনেক অভিবাসী সেখানে জড়ো হয়েছে।

অবস্থান নেয়া বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের অভিযোগ সম্প্রতিক বিদেশীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিবাসীরা এ দেশে নিরাপদ নয়। জীবনের হুমকি নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। প্রতিনিয়ত বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে অবস্থান করতে হয়। তাই তারা আর দক্ষিণ আফ্রিকাতে বসবাস করবেনা।

জাতিসংঘের কাছে তাদের আরো অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার মুখে বিদেশি নাগরিকদের পক্ষে কথা বল্লেও বাস্তবে অপরাধ দমনেও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা বিদেশি নাগরিকদের জন্য আর নিরাপদ নয়।দৈনিক যুগান্তর

তারা দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করে পৃথিবীর অন্য কোন শান্তিপূর্ণ দেশে চলে যেতে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করছেন। এ সময় তারা এ্যসালাইলম ও রিফুজি স্টাটাসসহ যাবতীয় কাগজপত্র জাতিসংঘের অফিসে প্রদর্শন করেন।

অবস্থাকারী বিদেশি নাগরিকদের দাবি জাতিসংঘ যতক্ষণ এ সমস্যা সমাধান না করবে ততক্ষণ তারা জাতিসংঘের রিফুজি এজেন্সি অফিসের সামনে অবস্থান করবেন। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের অফিস থেকে আনুষ্ঠানিক এখনো কিছুই বলা হয়নি। তবে স্থানীয় গনমাধ্যম এ খবরটি জোর দিয়ে প্রকাশ করছে।