স্বামীর খুঁজে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টা, বাধা দেয়ায় হত্যা

Img

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস এলাকায় বোনের বাসায় থাকতেন মালেকা বেগম। আর স্বামী আবুল হোসেন সুমন বিআরটিসি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন।

সোমবার সকালে ছেলের জন্য দুধ নিয়ে মালেকার বোনের বাসায় আসেন সুমন। কিন্তু সেখানেও দুইজনের ঝগড়া হয়। পরে বাসা থেকে দুইজনই বের হয়ে যান। একপর্যায়ে বাসায় এসে ছেলের জন্য আনা দুধ ফেরত দিতে স্বামীকে খুঁজতে বের হন মালেকা।

স্বামীর কর্মস্থল বিআরটিসি মোড়ের ফলমণ্ডিতে না পেয়ে ছেলের দুধ এক দোকানিকে জমা দিয়ে ফেরার পথে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন মালেকা। সেই ঘটনা পুলিশকে জানানোর কথা বলায় খুন হন তিনি।

মালেকা বেগম হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারের পর উঠে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রুবেল ওরফে ভোলাইয়া, মো. সুমন ও মাইকেল বড়ুয়া।

প্রথম স্বামী আব্দুল জলিল মারা যাওয়ার পর সুমনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন নিহত মালেকা। বর্তমান স্বামী কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে থাকলেও এক বছরের ছেলেকে নিয়ে সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জে থাকতেন মালেকা। ১৮ জুন তিনি চট্টগ্রাম শহরে আসেন। এরপর থেকে দুইজন দুই বাসায় ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান।

তিনি জানান, ঘটনার দিন দুধগুলো দোকানিকে ফেরত দিয়ে স্বামীর এক বন্ধুর কাছ থেকে রিকশা ভাড়ার টাকা নিয়ে বিআরটিসি মোড়ে ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়ান মালেকা। এ সময় একা পেয়ে স্বামী সুমনের সন্ধান দেয়ার কথা বলে তাকে সিআরবি এলাকার পরিত্যক্ত বাংলোতে নিয়ে যান রুবেল। সেখানে মালেকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে চিৎকার করলে রুবেলের সঙ্গে যোগ দেন সুমন। পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুইজনে মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশকে জানানোর কথা বললে তারা গলায় বোরকা পেঁচিয়ে মালেকাকে হত্যা করেন।

তিনি আরো জানান, হত্যার পর মালেকার ব্যবহৃত হুয়াই ব্র্যান্ডের মুঠোফোনটি নিয়ে মরদেহ ফেলে চলে যান তারা। পরে মুঠোফোনটি মাইকেল বড়ুয়া নামে একজনের কাছে দুই হাজার ৮শ’ টাকায় বিক্রি করেন।

গ্রেফতারের পর আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান ডিসি এসএম মেহেদী হাসান। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সিআরবি এলাকার বাংলো থেকে ওষুধসহ মালেকা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার