স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ: রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন নববধূ

Img

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হওয়া সেই নববধূ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতে এ ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

এ সময় বিচারক শারমিন খানম নিলা তার পুরো জবানববন্দি রেকর্ড করেন। কীভাবে স্বামীসহ তাকে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রাবাসে, এরপর সেখানে মারধর করার পর পালাক্রমে ছয়জন ধর্ষণ করে- সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন নববধূ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে ওই নববধূকে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতে আনে পুলিশ। এরপর দেড়টার দিকে আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি ২২ ধারায় ঘটনার জবানবন্দি দেন। বেলা সোয়া তিনটার দিকে তার জবানবন্দি দেয়া শেষ হয়।

নববধূর স্বামীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে এমসি কলেজের ফটক। এর ভেতরের মাঠে অনেকে বেড়াতে যান। শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে ওই নববধূও বেড়াতে গিয়েছিলেন। সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে স্বামী গিয়েছিলেন সিগারেট কিনতে। ফিরে এসে দেখেন, স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করছে কয়েকজন যুবক। এ সময় প্রতিবাদ করেন স্বামী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে গাড়িসহ তুলে নিয়ে যায় যুবকরা। পরে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে একেবারে শেষ প্রান্তে নেয়ার পর স্বামীকে একটি স্থানে আটকে রাখে তারা। আর নববধূকে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে ওই যুবকরা।

এ সময় ভুক্তভোগী নববধূর সঙ্গে ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ও তার স্বামী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী।

শুক্রবার রাতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয়জনের নামসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নববধূর স্বামী।

মামলার আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তাদের মধ্যে চারজনই এমসি কলেজের শিক্ষার্থী।

মামলার পরই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি দা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করে পুলিশ।

এছাড়া রোববার ভোরে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে ও চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পৃথকভাবে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার