হজ্বে পাঠানোর আড়ালে স্বর্ন পাচারের অভিযোগে সৌদি পুলিশের হাতে বাংলাদেশি গ্রেফতার

সাইদুল ইসলাম সুমন | নিজস্ব প্রতিবেদক : অক্টোবর ২, ২০১৮

হজ্বে লোক পাঠানোর আড়ালে স্বর্ন পাচারের অভিযোগে ৬০ স্বর্নের বার সহ সৌদি আরব পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মেঝ মৌলভী বাড়ির মজিবুর রহমান হামিদি। গত ২০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবস্থ জেদ্দা বিমান বন্দর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে তিনি বর্তমানে সে দেশের কারাগারে রয়েছেন। একাধিক হাজী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সৌদি আরব প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, দারুল ইহসান হজ্ব কাফেলা নামে একটি হজ্ব এজেন্টের মোয়াল্লেম হিসেবে দীর্ঘ দিন যাবৎ হজ্বে লোক পাঠিয়ে আসছেন মজিবুর রহমান হামিদি।

বিগত ৪ বছর পূর্ব থেকে অভিনব কায়দায় হাজীদের মাধ্যমে স্বর্ন পাচারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তিনি শুধু দারুল ইহসান হজ্ব কাফেলা নয় জিয়ারতে কাবা, সিল্ক ওয়েজ ট্রাভেলস সহ আরো কয়েকটি হজ্ব এজেন্টের মাধ্যমে হাজী পাঠিয়ে আসছেন। দারুল ইহসান হজ্ব কাফেলার নির্দিষ্ট কোটা পূর্ন হয়ে গেলে অন্য এজেন্টের মাধ্যমে হজ্বে লোক পাঠান তিনি। পবিত্র হজ্বব্রত পালন করে দেশে ফেরার সময় হাজীদের কাছে মাথা পিছু ২/৩টি করে স্বর্নের বার তার বাড়িতে বা তার নির্ধারিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দেন তিনি।

বিগত ৪ বছর যাবৎ এভাবে করে সৌদি আরব থেকে অভিনব কায়দায় স্বর্ন পাচার করে আসছেন তিনি। তাকে এসব স্বর্ন চোরাচালানে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছে তার ভাগ্নে রায়হান, তার বাড়ির আরেক মোয়াল্লেম আবদুল্লাহ আল মামুন ও কে.জেড. মাসুম নামের আরেক মোয়াল্লেম। তার মাধ্যমে পাঠানো প্রথম ফ্লাইটের হাজীদের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক স্বর্নের বার পাঠিয়ে দেন তিনি। গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশে আসার প্রাক্কালে জেদ্দা বিমান বন্দরে সে দেশের পুলিশ হাজীদের ব্যাগ তল্লাশী করে শুরু করে। এসময় তার ভাগ্নে রায়হানের কাছ থেকে ৩টি স্বর্নের বার উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত স্বর্নের বারের বৈধ কাগজ পত্র না দেখাতে পারলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বর্নের বারগুলো তার মামা মজিবুর রহমান হামিদির বলে জানায়। তাকে ছেড়ে দিয়ে তার মামা মজিবুর রহমান হামিদিকে আটক করে তার কাছ থেকে আরো ৬টি স্বর্নের বার উদ্ধার করে। এভাবে তার পাঠানো অপরাপর হাজীদের ব্যাগ তল্লাশী করে মোট ৬০টি স্বর্নের বার উদ্ধার করে সৌদি আরব পুলিশ। তার ভাগ্নে সহ অপরাপর হাজীদের ছেড়ে দিয়ে তাকে সৌদি আরব কারাগারে পাঠায় সে দেশের পুলিশ। বর্তমানে তিনি ওই দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মজিব স্বর্ন পাচার বা চোরাচালানীর সাথে জড়িয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ অভিনব কায়দায় হাজীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছে। সে জামায়াত-শিববিরের অর্থ যোগানদাতা। তার কারণে হাজীরাও বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। হাজীদের অভিযোগ, হজ্বে পাঠানোর সময় নানা সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলে হাজীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন মজিব। কিন্তু সেখানে হাজীদের কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা দেননা। ফলে হাজীরা চরম বিপাকে পড়তে হয়। তার নিয়োগকৃত সেবক ও গাইডার বোরহান উদ্দিন জানান, হাজীদের সেবা ও গাইডের জন্য তার সাথে পাঁচ হাজার রিয়ালের বিনিময়ে চুক্তি হলেও মজিব তাকে মাত্র এক হাজার রিয়াল প্রদান করে। এনিয়ে তার সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা থেকে পাঠানো হাজী মো. সেলিম জানান, হাজীদের যে রকম সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলে হজ্বে নিয়েছেন সে রকম কোন সুযোগ সুবিধা না দিয়ে হাজীদের সাথে প্রতারণা করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার স্ত্রীর মাধ্যমে ৪টি স্বর্নের বিস্কিট (বার) পাঠাতে চাইলে তিনি তার কাছে তার নামে রশিদ দিতে বললে তিনি রশিদ না দিতে পারায় তারা সে স্বর্নের (বিস্কিট) বারগুলে আনেননি। মহান আল্লাহ তাদের মানসম্মান রক্ষা করেছে।

সোনাগাজীর থেকে পাঠানো হাজী সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা মু্ক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মফিজুল হক পাটোয়ারী ঘটনার ড়ঢ়ড় নিশ্চিত করে জানান, তারা হাজী পাঠিয়ে তাদেরকে ঠিকভাবে নাস্তা পানি ও মানসম্মত হোটেলেও রাখেননি। হাজীদের মাধ্যমে স্বর্নের বার পাচারের মাধ্যমে তারা হাজীদেরকে চরম বিপাকে ফেলেছেন। মজিবুর রহমান হামিদি সোনাগাজী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মেঝ মৌলভী বাড়ির মাও. মাহবুবুর রহমান হামিদির ছেলে। সোনাগাজী মাদ্রাসা মার্কেটের দারুল ইহসান হজ্ব কাফেলা নামে মজিবের অফিসে গেলে অফিসটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং সাইনবোর্ডে একই হজ্ব এজন্টের দুটি লাইসেন্স নাম্বার পাওয়া যায়। একটির হজ্ব লাইসেন্স নাম্বার- ১৪৯৫ এবং অপরটির হজ্ব লাইসেন্স নাম্বার-২৯২।সম্প্রতি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি হাজীদের সাথে প্রতারণা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে যেসব হজ্ব এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছেন সেগুলোর মধ্যে দারুল ইহসান হজ্ব কাফেলার নামও রয়েছে এমনটি জানা যায়।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০১৮

প্রতিবেদক: সাইদুল ইসলাম সুমন

পড়েছেন: 679 জন

মন্তব্য: 0 টি