মধ্য নভেম্বর, গ্রেট ব্রিটেনের আকাশ বাতাশ জুরে ধেয়ে আসছে কনকনে ঠাণ্ডা। যতই আবৃত হয়ে ঘরের বাইরে যাইনা কেন হিম অনুভুতি পিছু ছাড়বার নয়। আবহাওয়ার পুর্বাভাস যদি ঠিক হয় তবে এর তীব্রতা বাড়বে আরও অনেক বেশি।

এই তীব্র শীতের মাঝেও উত্তাপ দিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেনের জাতীয় নির্বাচন। প্রধান মন্ত্রী বরিস জনসন কোন উপায় অন্ত না দেখে আগামী ১২ই ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধান বিরোধী দল সহ অন্য সকল দল স্বাগত জানানোর ফলে সাধারন মানুষের কাছে অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই দুই বছরের মধ্য আরও একটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দানের সুযোগ চলে আসে।

গ্রেট ব্রিটেনের নির্বাচনের ইতিহাসে এটা দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন যেখানে মানুষকে ভোট দিতে হবে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে। উল্লখ্য যে ব্রিটেনে নির্বাচনের জন্য সব চাইতে প্রিয় সময় হচ্ছে এপ্রিল কিংবা মে মাস। গত পাঁচ বছরে ব্রিটেনের ভোটারদের পাঁচটি নির্বাচনে ভোট দিতে হয়েছে ইচ্ছায় কিংবা অইচ্ছায়।

২০১৫ সালে জাতীয় নির্বাচন, ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট রেফারেনডাম, ২০১৭ সালে জাতীয় নির্বাচন, ২০১৮ সালে ইউরোপিয়ান পার্লামেনট নির্বাচন, ২০১৯ সালে আবার জাতীয় নির্বাচন। ভোটাররা ক্লান্ত, বিরক্ত যার প্রভাব নিশ্চিত পরতে যাচ্ছে ১২ই ডিসেম্বর এর জাতীয় নির্বাচনে।

২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার টার্ন আউট ছিল ৬৬%। ২০১৭ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই টার্ন আউট দাড়ায় ৬৮% তবে এবার এই টার্ন আউট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আশংকা দেখা দিয়েছে। দুদিন আগে এক রাজনীতিবিদ বন্ধুর কাছে জানতে পারলাম এবার নির্বাচনি ক্যাম্পেইনেও অনেক নতুনত্ব আসতে যাচ্ছে।

যার সার সংক্ষেপ হচ্ছে ভোটারদের যত কম বিরক্ত করে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা যায়। উধাহরন হিসেবে বলা যায় এবার শুধু ডোর লিফলেট বিতরণ করা হবে। যেখানে ডোরে করা নেড়ে ভোট চাওয়া বা কথা বলা এবং লিফলেট বিতরণ ইংলিশ ক্যাম্পেইনের অন্যতম একটা মাধ্যম। 

২০১৭ এবং ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র কারন হচ্ছে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন। ২০১৬ সালের রেফারেনডাম নির্বাচনে ব্রিটেনকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন হতে বের হয়ে আসার পক্ষে ব্রিটিশ জনগণ ভোট দেয়। ফলে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে একটা ভাল ডিল এর মাধ্যমে এই বিচ্ছেদ সম্পন্ন করতে আর এখানেই সকল বিপত্তি। সরকারের প্রস্তাবিত ডিল কোন ক্রমেই সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না। আবার পার্লামেনটেও তাদের ব্যাপক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নাই যে তার বিরোধী দল গুলকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।

 ২০১৭ সালের প্রধান মন্ত্রী তেরেসা মে যেমনটি চেয়েছিলেন নির্বাচন দিয়ে ব্যাপক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে ব্রেক্সিট ডিল সম্পন্ন করতে। ২০১৯ সালের প্রধান মন্ত্রী বরিস জনসনও একই পথে হাঁটছেন। তবে তিনি সফল হবেন কি না তা দেখবার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ১২ই ডিসেম্বর রাত অব্দি। তবে এখনও পর্যন্ত ইলেকশান পুল গুল যা খবর দিচ্ছে তাতে আরও একটি জুলন্ত পার্লামেনেটের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে গ্রেট ব্রিটেন।

কিন্তু এই যে প্রতি বছর এত অর্থ, শক্তি, মেধা খরচ মতান্তরে অপচয় হচ্ছে এর মুল কারন কিন্তু অত্যান্ত গুরুত্ব পুর্ন। এত কিছুর পিছনে মুল কারনটি হল দেশের মানুষের মতামত বা তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রদত্ত রায়কে মূল্যায়ন। ছোট বেলা হতেই আমি বাংলাদেশের রাজনীতির একজন দর্শক।

বাংলাদেশের সব লিজেন্ড রাজনীতিবিদদের সেই সেকাল হতেই যে ভাবে ওয়েস্টমিনিস্টার পার্লামেনট এর উধাহরন দিয়ে মুখে ফেনা তুলতে দেখেছি তাতে বড়ই গর্ব হত। আমার বুকটা চওড়া হয়ে যেত আমার দেশের রাজনীতিবিদরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পার্লামেনটের অনুসরণ করে। আমাদের আইন সভাকেও ওয়েস্টমিনিস্টার পার্লামেনটের মত করে সাজাতে চায়।

কিন্তু ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এসেও আমরা কি ব্রিটিশ পার্লামেনটের মুল ভিত্তি জনগণের রায়ের প্রতি সন্মান প্রর্দশন এর ধারে কাছে আসতে পেরেছি। এমনকি যে দেশে জনগণের রায় দেবার সুযোগই নাই সেখনে তাদের রায়ের প্রতি সন্মান প্রাপ্তির আশা বাতুলতা মাত্র।

আচিরেই আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন আরেকটি ক্যালেন্ডার ইয়ার। আশা করতে বাধা কোথায় এই নতুন বছরে  আমাদের অভুত পুর্ব উন্নতি হবে চিন্তায় মননে। দেশের মানুষকে তাদের ভোটাধিকার প্রদানের সুযোগ করে দেয়া হবে। কেন নয়, অনেক কিছুইত দেশে ঘটছে যা আগে কক্ষনো ঘটেনি।