স্ত্রীকে হত্যার পর ফোন করে লাশ নিয়ে যেতে বলল স্বামী

Img

ঢাকার সাভারে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে হত্যার পর নিহতের স্বজনদের ফোন করে মরদেহ নিয়ে যেতে বলেছিলো পলাতক স্বামী আসাদুল। 

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার তাজউদ্দীন সরকারের মালিকানাধীন একটি টিনশেড বাড়ি থেকে মরেদহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহত বৃষ্টি আক্তার (২১) কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার বাঁশকাটি গ্রামের মেয়ে। তার স্বামীর নাম আসাদুল ইসলাম। তারা দুজনেই আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার টেক্সটাউন নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

বাড়ির মালিক গুলবাহার বেগম বলেন, দুই মাস আগে তার বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয় স্বামী আসাদুল ও স্ত্রী বৃষ্টি। তারা স্থানীয় টেক্সটাউন গার্মেন্টসে চাকরি করতো। আজ বেলা ১২টার দিকে মেয়ের ভাই গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ থেকে আমাদের এলাকায় আসে। পরে বিভিন্ন বাসায় বাসায় বোন ও তার স্বামীর ছবি দেখিয়ে তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। এরপর আমার বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়ার কাছে আসলে সে রুম দেখিয়ে দেয়। কিন্তু তখন বাইরে থেকে রুমের তালা লাগানো অবস্থায় ছিলো। পরে দরজার নিচ দিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তার বোনকে বিছানায় নিথর পড়ে থাকতে দেখেন ভাই। আসাদুল তার স্ত্রীর ভাইকে ফোন করে বলছে, তোর বোনকে মেরে রাখছি। আইসা লাশ নিয়া যা। এই খবরেই ভাই ঢাকায় ছুটে এসে বিভিন্ন বাড়িতে তার বোনকে খুঁজতেছিলো।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানিম আহমেদ বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে স্বামী আসাদুল তার স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের শরীরে গলায়, পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন আছে। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বিছানায় লুঙ্গি দিয়ে ঢেকে রেখে বাইরে থেকে কক্ষ তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে। পালানোর আগে স্বামী তার ফুপুকে ফোন করে হত্যার কথা জানিয়েছে। স্ত্রীর ভাইকেও ফোন করে বলেছে যে, তোর বোনকে মেরে রেখেছি। এসে লাশ নিয়ে যা।'

তিনি আরও বলেন, 'পারিবারিক কলহ থেকেই শুক্রবার কোন এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটনো হয়ে থাকতে পারে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে অভিযুক্ত আসাদুলকেও আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।'

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার