স্তন্যদায়ী মায়েদের এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত

Img

শিশু জন্মানোর পর মায়ের দুধই হয় তার একমাত্র খাবার। অন্তত ছয় মাস প্রত্যেক শিশুকে স্তন্যপান করানো উচিত। বলা হয়, শিশুকে দেওয়া মায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হল বুকের দুধ। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস স্তন্যপান করে একটি শিশু যে পুষ্টি পায়, তা তাকে সারাজীবন নানা অসুখ-বিসুখ থেকে রক্ষা করে। স্তন্যপান শুধু শিশুর জন্য নয়, মায়ের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিশুকে স্তন্যপান করালে অবশ্যই মায়েদের বেশ কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা উচিত।

বিশেষ করে একজন মা কী খাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন না তার উপর শিশুর পুষ্টি নির্ভর করে। নাহলে সন্তানের দুধের ঘাটতি হতে পারে বা মায়ের দুধ পান করে ছোট্ট শিশুর অম্বল, গ্যাস, পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়ের পুষ্টির দিকে যেমন নজর দিতে হয়, তেমনি বাচ্চা এবং মায়ের শরীর সুস্থ রাখতে এই সময় বেশ কিছু খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত সমস্ত মায়েদের।

সি ফুড

সি ফুডে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা বাচ্চার নার্ভ সিস্টেমকে উন্নত করে। কিন্তু এখন সি ফুডে মারকিউরির পরিমাণ বেশি থাকায় চিকিৎসকরা সি ফুড এড়িয়ে চলতে বলছেন।

প্রসেসড ফুড

ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে নতুন মায়েদের দিন কেটে যায়। এই সময় রান্না করা বা ঘরের অন্য কাজ করার সময়ই পান না তারা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রসেসড ফুডের দিকে ঝোঁকেন নতুন মায়েরা। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন মায়েদের জন্য, বিশেষ করে যারা বাচ্চাকে স্তন্যপান করান, তাদের প্রসেসড ফুড থেকে দূরে থাকা উচিত। যেকোনও প্রসেসড ফুড, মায়ের বুকের দুধের মধ্যে দিয়ে বাচ্চার শরীরে যাবে, যা ছোট্ট শরীরে বিষের কাজ করবে। মা প্রসেসড ফুড খেলে বাচ্চার অ্যালার্জিও হতে পারে।

মশালাদার খাবার

গর্ভাবস্থায় সব হবু মাকেই বেশি তেল-ঝাল মশলা দেওয়া খাবার খেতে বারণ করা হয়। বলা হয় স্পাইসি খাবার খেলে গর্ভস্থ শিশুর সমস্যা হবে। বাচ্চা হওয়ার পর অনেক মা-ই ভাবেন এবার মশালাদার খাবার খাবেন। কিন্তু এটা একদম করা উচিত নয়। কারণ মা যা খাবেন বুকের দুধের মধ্যে দিয়ে সেটা বাচ্চার শরীরে যাবে। এর ফলে একাধিক সমস্যা দেখা দেবে ছোট্ট শিশুর।

মিষ্টিজাতীয় খাবার

মিষ্টির প্রতি কমবেশি সবার দুর্বলতা থাকে। কিন্তু স্তন্যপান করান যেসব মায়েরা, তাদের মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

চা-কফি থেকে দূরে থাকুন

মা বেশি চা-কফি খেলে বাচ্চার ঘুমের সমস্যা হবে। শিশু উত্তেজিত হয়ে পড়বে। যার ফলে সে ঘুমোতে চাইবে না। দিনে দুই-তিন কাপ চা বা কফি খেতে পারেন একজন মা, কিন্তু তার বেশি হলে বাচ্চার জন্য বিপদ।

মদ্যপান করবেন না

বাচ্চাকে যদি বুকের দুধ খাওয়ান তাহলে মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। গর্ভাবস্থায় এবং বাচ্চার জন্মের পর মদ থেকে দূরে থাকাই ভাল। সামান্য মদও বাচ্চার বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি মদ খান তাহলে সেটা আপনার শরীর থেকে বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বাচ্চাকে বুকের দুধ দেবেন না।

মাংস

যেসব মাংসে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকা সেসব থেকে দূরে থাকাই ভালো। ফ্যাট বেশি থাকলে সেটা শরীর থেকে টক্সিন শোষণ করে নেবে। সেইসঙ্গে মায়ের ওজনও বাড়িয়ে দেবে।

অ্যাসিডিক খাবার

ভিটামিন সি অনেক শিশুর শরীরে কুপ্রভাব ফেলে! তাই কমলালেবু, পাতিলেবু, টমেটোর মতো জিনিস যাতে ভিটামিন-সি বেশি পরিমাণে থাকে, সেইসব থেকে মায়েদের দূরে থাকা দরকার। আপনার শিশু যদি বুকের দুধ খায় তাহলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা হতে পারে। ভিটামিন-সি আছে এমন খাবার খেলে বাচ্চার স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখুন। বাচ্চার যদি কোনওরকম সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই ফল বা সবজি খাওয়া বন্ধ করে দিন।

আরও কিছু ফল-সবজি

উপরের জিনিসগুলো ছাড়াও বাঁধাকপি, বিনস, রসুন, পেঁয়াজ, ডিম, বাদাম স্তন্যদায়ী মায়েরা যত কম খাবেন ততই ভালো।

কীভাবে বুঝবেন বাচ্চার সমস্যা হচ্ছে

বাচ্চার পেট ফাঁপা, নাক থেকে জল পড়া, মুখ থেকে থুথু পড়া, র‌্যাশ বের হওয়া, ইত্যাদি সমস্যা হলে বুঝবেন বাচ্চার সমস্যা হচ্ছে।

কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত

ফলমূল, শাক-সবজি বেশি করে খাওয়া উচিত। খেয়াল রাখতে হবে মায়েদের ডায়েটে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেন বেশি পরিমাণে থাকে।

- সূত্র: বোল্ডস্কাই
প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার