জীবিকার তাগিদে এক মুঠো স্বপ্ন নিয় আজ থেকে ৪ বছর আগে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন আখাউড়া নুরপুর গ্রামের আলম খাঁন। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই ভাগ্যহত আলম খান বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বিগত দুই বছর আগে কাতারস্থ মালিক তাকে অবৈধ ভাবে বিক্রি করে দেয় সৌদি এক মালিকের কাছে। তারপর থেকে সে নিখোঁজ  ছিল এবং দুই বছর বন্দী করে রেখে তার উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।

সর্বশেষ গত তিন দিন আগে মুমূর্ষু অবস্থায় মালিকের বন্দীদশা থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে পরিবার কাছে ফোন করে সৌদি প্রবাসী আলম খান। এমতাবস্থায় বিধ্বস্ত আলম খান দেশে ফিরে আসতে তার পরিবারের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় ও সৌদিতে  বাংলাদেশের দূতাবাসের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী আলম খান এক ভিডিও বার্তায় জানান, তার কাছে কোন টাকা পয়সা নেই সৌদি মালিক তার পাসপোর্ট ও কাগজ পত্র রেখে দিয়েছে এবং সে পালিয়ে আবাদত দাম্মাম শহরের নড়িয়া এলাকায় এক বাংলাদেশীর আশ্রয়ে আছে সে অসুস্থ তার চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন,  বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করছেন।                     

আলম খানের স্ত্রী রেহানা বেগম জানিয়েছেন, অসুস্থ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় আলম খান কে হাসপাতালে নিয়ে যায় মালিক কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল থেকে পুনরায় কর্মস্থলে নেওয়ার পথে তিনি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যায় তখন পুলিশের গাড়ি এসে তাকে উদ্ধার করে এবং দুইদিন যাবত পুলিশের তদারকিতে রেখে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে সৌদি পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার এক প্রতিবন্ধী সন্তান সহ তিন সন্তান নিয়ে ৪ বছর ধরে অর্ধাহারে অনাহারে দিন পার করছি তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমার স্বামী কে দেশে ফিরিয়ে এনে আমার অসহায় পরিবার কে বাঁচান। 

এদিকে সৌদি আরবে অসহায় অবস্থায় থাকা আলম খানের সন্তান শুয়াইব খান তাকে দেশে পাঠানোর জন্য চেষ্টা করছে কিন্তু পাসপোর্ট ভিসা ও সর্বস্ব হারানো আলম খান কে এখনই দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে ইমিগ্রেশন জটিলতার কারণে। তার ছেলে শুয়াইব খান ফোনে জানান,  তার পিতা  মুমূর্ষু অবস্থায় আছে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন নইলে প্রানহানির শঙ্কা আছে।