সৌদি আরবে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশী সুমনের স্ত্রীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উপজেলার ঘাগড়া নদীরপাড় গ্রামের বাতাস। ‘সৌদিআরব তুইন আমার স্বামীর লাশ আইনা দাও বাবারা। অবুঝ তিন মেয়েকে নিয়ে নিঃস্ব! আমি অহন কি করবো!’ এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্ত্রী শান্তা আক্তার।

সোমবার রাতে সৌদি প্রবাসী একই এলাকার হিমেল নামের একজন মুঠোফোনে সুমনের পরিবারকে তার নিহতের খবরটি জানান। সুমনের মারা যাওয়ার এ খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে তার পরিবারে এবং গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আট মাস আগে সুমন মেসার্স খান ওভারসীজ আর,এল-৯১৫ এজেন্সির মাধমে মেসার্স আসনাদ আল ওয়াহা কনট্রাকটিং কোম্পানীর অধীনে সৌদি আরবে যান। তার পাসপোর্ট নম্বর-বিডব্লিউ০০৩৪৪০১। ভিসা নম্বর-৬০৫৩৩৭৫৬৯৮। সৌদি আরব যাওয়ার পর আট মাস পার হয়ে গেলেও কোম্পানী সুমনকে কোন কাজ দেয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি গত শনিবার সিজার সার্ভিস নামের একটি কোম্পানীতে বলদিয়ার (পরিচ্ছন্নকর্মী) কাজে যোগ দেন। গত সোমবার বিকেলে কোম্পানীর একটি গাড়িতে করে ময়লা নিয়ে জেদ্দার একটি মরুভূমিতে ফেলতে যান। সেখানে ময়লা ফেলার সময় অসাবধানতাবশত গাড়ির ঢাকনার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে সুমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। শোকে স্তব্ধ হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে বাড়ির আঙিনায় বসে রয়েছেন সুমনের বৃদ্ধ পিতা গিয়াস উদ্দিন। তাকে শান্তনা দিচ্ছেন পাড়া-প্রতিবেশী। বাড়ির ভেতরে নারীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে চারপাশ। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে বিলাপ করে কাঁদছেন সুমনের বোনেরা। স্বামীকে হারিয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন স্ত্রী শান্তা। প্রিয়া (৮), তমা (৪) ও নাজিফা (১.৫) নামে সুমনের তিন অবুঝ কন্যা বাড়িতে আসা লোকজনের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

সুমনের বৃদ্ধ পিতা গিয়াস উদ্দিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সংসারে স্বচ্ছলতার আনার জন্য জমি বিক্রি করে সাড়ে চার লাখ টাকায় ছেলেকে বিদেশে পাঠাই। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা। ছেলের লাশটি যাতে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয় সেজন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই।