সেহরি খাওয়া সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবি

বিষয়: পবিত্র মাহে রমজান ২০২১
Img

খোশ আমদেদ মাহে রমজান। রহমত, বরকত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারো এলো মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার এ মাসেই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন। তাই এ মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেহেরি কী?
রোজার উদ্দেশ্যে ভোর রাতে খাবার গ্রহণই সেহরি। সেহরি খাওয়া সুন্নত। সেহরিতে রয়েছে বরকত ও কল্যাণ। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণায় সেহরিতে রয়েছে বরকত ও কল্যাণ। অমুসলিমরাও রোজা পালন করে, তাদের রোজায় সেহরি নেই। তাই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেহরি গ্রহণ করতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন।

সেহরি সম্পর্কে বিশ্বনবির ঘোষণা:
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম)

অন্য হাদিসে এসেছে
 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়া বরকতময় কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি কর। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ইবনে হিব্বান)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। (অর্থাৎ মুসলিমরা সেহরি খায় আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সেহরি খায় না)।’ (মুসলিম, নাসাঈ)

সেহরি খাওয়ার সময়:
ভোর রাতের শেষ মুহূর্তে সেহরি খাওয়া উত্তম। তা পেট ভরে খেতে হবে এমন নয় বরং অল্প হলেও তা অনেক বরকত ও কল্যাণের। কারো যদি পেট ভরা থাকে তাহলে তার অন্তত এক ঢোক পানি পান করে হলেও সেহরি গ্রহণ করা উচিত। 

হাদিসে এসেছে- সেহরি খাওয়ার সময় শুরু হয় মধ্যরাত থেকে। আর শেষ হয় ফজরের আগে। তবে ফজরের আগে তথা শেষ রাতে সেহরি গ্রহণ করাই সর্বোত্তম।
যদি কেউ মধ্যরাতের আগে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে; তবে তাকে সেহরি গ্রহণের জন্য শেষ রাতে উঠতে হবে। আর মধ্য রাতের পর খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সেহরি খাওয়ার বরকত ও হুকুম আদায় হয়ে যাবে।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যায়েদ বিন সাবেত তাকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সেহরি খেয়ে (ফজরের) নামাজ পড়তে ওঠে গেছেন।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সেহরি খাওয়া ও ফজরের আজান হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কতটুকু? উত্তরে যায়েদ বিন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ’৫০ অথবা ৬০ আয়াত পড়তে যতক্ষণ সময় লাগে।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি)
৫০/৬০ আয়াত বলতে মধ্যম ধরনের আয়াত। যা তেলাওয়াতে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগবে। সে আলোকে ফজরের আজানের ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সেহরি খাওয়া। অতএব সেহরি খাওয়ার সুন্নাত সময় হলো ফজরের ১৫/২০ মিনিট আগে সেহরি খাওয়া।

সেহরি গ্রহণের উপকারিতা:
প্রিয় নবি বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাওয়ার অভ্যাস গঠন কর। কারণ সেহরি বরকতময় খাদ্য।’ (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ) যেহেতু সেহরি বরকতময়। তাই সেহরিতে বরকত থাকার 
অর্থই হলো-
– সেহরি গ্রহণে রোজাদার সারাদিন সুস্থ ও সবল থাকবে।
– ইবাদত-বন্দেগিতে আগ্রহের কমতি থাকে না।
– রোজার কষ্ট হালকা হয়।
-প্রিয়নবির নির্দেশ পালন করা হয়। এবং
– ইয়াহুদি-খ্রিস্টানসহ অমুসলিমদের অনুসরণ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

ক্ষুধা না থাকলেও সেহরিতে যা খাবেন:
সেহরি খাওয়া বরকতের, তাই বলে সেহরি খাওয়া নিয়ে বাড়াবাড়ি একদমই ঠিক নয়। বিশাল আয়োজনে পেট ভরে সেহরি গ্রহণের কোনো দিক-নির্দেশনাও নেই। বরং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে ইবাদত-বন্দেগিতে অলসতা চলে আসে। রমজানের কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে বঞ্চিত হয় মুমিন মুসলমান। তাই অল্প-বিস্তর যে কোনো খাবার গ্রহণেই সেহরি খাওয়ার বিধান পালিত হয়ে যাবে। কেউ যদি খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি বা দুধ পান করে অথবা ২/১টি বিস্কুট বা এ পরিমাণ সামান্য খাবারও খায়; তাতেও সেহরি খাওয়ার বরকত অর্জিত হয়ে যাবে।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়ায় বরকত আসে। সুতরাং তোমরা তা (সেহরি) খেতে ছেড়ো না; যদিও তোমরা তাতে এক ঢোক পানিও খাও। কেননা যারা সেহরি খায়, তাদের জন্য আল্লাহ রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে, প্রিয়নবি বলেছেন, ‘মুমিনের শ্রেষ্ঠ সেহরি হলো খেজুর।’

এমন যেন না হয়:
সেহরিতে বিভিন্ন খাবার গ্রহণের ফলে শ্বাস কষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা যেন না হয়। যার ফলে দিনের শুরুতে ফজর সালাত আদায়ে কষ্ট হয়ে যায়। ফজর পরবর্তী সময়ে আল্লাহর জিকিরে বসার আগ্রহ ও মনোযোগ হারিয়ে না যায়।

সেহরি বা রোজার দোয়া:
সেহরি খাওয়ার পর রোজা রাখার জন্য যে নিয়ত করতে হয় তাই সেহরি বা রোজার দোয়া। দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ: বিসাওমি গাদান নাওয়াইতু মিন শাহরি রামাদ্বান।
অর্থ: আমি রমজান মাসের আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করছি।
আল্লাহ তাআলা সব রোজাদারকে প্রতিদিন সেহরি খাওয়ার তাওফিক দান করুন। সাহরির বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। ফেরেশতাদের মাগফেরাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার