বাগেরহাটের রামপালে পৌনে ২ লক্ষ মানুষের মধ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে রয়েছে। উপকুলীয় এ উপজেলা তীব্র লবণাক্ত এলাকা হওয়ায় এবং প্রকৃতিক জলাশয় তেমন না থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট আকার ধারন করেছে। এতে প্রতিদিনই শত শত মানুষ পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে সুপেয় পানি পান ও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের। বাকি ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ অনিরাপদ ও জীবানুপূর্ণ পানি পান করে জীবন ধারন করছেন। সরকারী ভাবে নলকূপ, গভীর নলকূপ, পানির ট্যাংকি সরবরাহের মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতান্ত অপ্রতুল।

এক পরিসংখ্যানে জানাগেছে, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোট নলকূপের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৮টি। এর মধ্যে চালু রয়েছে ৩হাজার ১৩৮টি। অকেজো হয়ে গেছে ৩৬০টি। অগভীর নলকূপের সংখ্যা ১ হাজার ২২১টি, এরমধ্যে চালু আছে ৯৫৭টি অকেজো আছে ২৬৪টি। গভীর নলকূপ আছে ১ হাজার ৭১৬টি, চালু আছে ১ হাজার ৬৯৮টি, অকেজো আছে ১৮ টি। বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পানির ট্যাংকি দেওয়া হয়েছে ৮০টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, সুপেয় পানির সংকটের কারনে অনিরাপদ পানি পান ও ব্যবহারের ফলে পানি বাহিত রোগের প্রাদূর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক মানুষ ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ার চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্র থেকে শতশত রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছে।

এ উপজেলার ভোজপাতিয়া ও পেড়িখালী ইউনিয়নে সম্পূর্ণ ও রামপাল সদর, মল্লিকেরবেড়, বাঁশতলী, হুড়কা ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় নিরাপদ ও সুপেয় পানির তীব্র অভাব রয়েছে। ওই এলাকায় আর্সেনিকের তীব্রতা থাকায় অগভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব না এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে পানির লেয়ার সুপেয় না পাওয়ায় সেটা ও স্থাপন করা সম্ভব না।

ভোজপাতিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল আমিন জানান, আমার ইউনিয়নে ১৪/১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এখানে কোন প্রকার টিউবওয়েল কৃতকার্য না। একটি মাত্র পুকুরের উপরই ভরসা সেটি ও পূণঃ খননের জন্য শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে ৩০ লিটার ড্রাম এর পানি কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকায়। প্রতিনিয়ত পানিবাহিত রোগে আক্রন্ত হচ্ছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা। তিনি অচিরেই পানি সমস্যা সমাধানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সমস্যায় পেড়িখালী ইউনিয়নের ২০/২২ হাজার মানুষ। ওই ইউনিয়নে ফুলপুকুর নামের একটি দীঘিই ভরসা।

এব্যাপারে রামপাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ  জানান, এ উপজেলায় আর্সেনিক ও সুপেয় পানির লেয়ার সমস্যা রয়েছে। অনেক এলাকায় ভূর্গভস্থ পানি ব্যবহারে সমস্যা রয়েছে। সরকারী ভাবে নলকূপ স্থাপন, পানির ট্যাংকি বরাদ্দ ও সরকারী পুকুর পূণঃ খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সুপেয় পানির সমস্যার বিষয়ে রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন  জানান, এ উপজেলার অনেক এলাকায় তীব্র লবনাক্ততার কারনে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। সংকট নিরশনের জন্য ইতিপূর্বে সরকারী ভাবে যে সব ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে তার পাশাপাশি ৮টি সরকারী পুকুর পূণঃ খননের কাজ চলছে। মেয়র মহোদয় আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার এর মাধ্যমে এ এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। অচিরেই এ এলাকার মানুষ যাতে সারা বছর সুপেয় পান ও ব্যবহার করতে পারে তার টেকসই সমাধান করা হবে।