সীমান্তে হত্যা বন্ধে একমত বাংলাদেশ-ভারত

Img

সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও মাদক চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ঐকমত্য হয়েছে। 

শনিবার বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে এমন সিদ্ধান্ত আসে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

সীমান্ত হত্যা কেন বন্ধ হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা বলেন, এই ঘটনা শূণ্যের কোঠায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা। সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে যে সব জায়গায় বেশি হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সেখানে শিগগিরই যৌথ টহল করবে দুই দেশের সীমান্ত বাহিনী। আর, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কোন ক্যাম্প বা আস্তানা নেই। বাংলাদেশ কখনও তার ভূমি কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অন্য কোন রাষ্ট্রের বিশেষ করে ভারতের কোনও শত্রুপক্ষকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। ভবিষ্যতেও দেবে না।

সম্মেলনে মাদক পাচার ঠেকাতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে আরো সুসম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয় সম্মেলনে। উভয়পক্ষই পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ১৫০ গজের মধ্যে কোনও ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, বন্ধ থাকা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ গুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা ও বিজিবি সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসারগণ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। 

আর, রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে বিএসএফ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হয় এই সম্মেলন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার