সিলেট-কমলগঞ্জে ১৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

Img

সিলেট নগরের ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পৃথক অভিযানে প্রায় ১৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর। পৃথক এ অভিযানে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে প্রতিষ্ঠান দু’টিকে। এছাড়া জব্দকৃত তেল মাইকিং করে ন্যায্যমূল্য বিক্রি করা হয়েছে। 

শনিবার (১৪ মে) পৃথক পৃথক সময়ে এ দুটি অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর। এমন তথ্য বিকেল ৩টায় নিশ্চিত করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম প্রবাসীর দিগন্তকে বলেন, ‘ভোক্তাদের কাছে ন্যায্যমূল্য সয়াবিন তেল বিক্রি না করে গুদামে রাখছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। আমরা অনুসন্ধান করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের তালিক প্রনয়ণ করে অভিযান পরিচালনা করছি। এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতকরণে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ‘

তিনি আরও বলেন, ‘সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় ইতিমধ্যে বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৪ মে) দুপুরে সিলেট নগরের দাড়িয়া পাড়া এলাকার রসময় স্কুলের পাশে জনপ্রিয় স্টোর নামের রুপচাঁদা সয়াবিন তেলের ডিলারের গুদাম থেকে ৩ হাজার ৫০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। সুজন রায় নামের ওই ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর, সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ। এসময় তিনি জব্দকৃত তেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করেন।

এদিকে, অভিযান চলাকালে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন সুজন রায়।

অপরদিকে, বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের মুন্সি বাজারে অপর এক অভিযান পরিচালনা করেন আল আমিন নামের ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা। তিনি মেসার্স সালাউদ্দিন ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করে ৯হাজার ১৬৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের মালিককে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

এসময় জব্দকৃত সয়াবিন তেল মাইকিং করে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, সয়াবিন তেল মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগে গত ৮ মে থেকে সিলেটে অভিযান শুরু হয়। এসব অভিযানের পূর্ব পর্যন্ত পাঁচদিনে  সিলেট বিভিাগের চার জেলা থেকে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত তেল ক্রেতাদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হয় এবং মজুদকারীদের জরিমানা করে ভেক্তা অধিদপ্তর।

প্রসঙ্গত, ঈদের পর থেকেই বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিলেটে সঙ্কট দেখা দিয়েছে তেলের। ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনেকে বিক্রি করছেন বেশি দামে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার