সাভারে বেতনের দাবিতে আজও শ্রমিকদের অবস্থান

Img

সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বকেয়া বোতনের দাবিতে ও ছাটাইয়ের প্রতিবাদে আজও অবস্থান নিয়েছে কয়েকটি কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে আশুলিয়ার প্রায় ৭ টি কারখানার সামনে বকেয়া বেতন ও ছাটাইয়ের প্রতিবাদে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা।

কারখানাগুলোর মধ্যে জিরানীবাজার এলাকার ফ্রাউলিন ফ্যাশন লিমিটেড, কুটুরিয়ার জেড এ এপারেলস লিমিটেড, একই এলাকার টপ গ্রেড ওয়াসিং লিমিটেড, নরসিংহপুর এলাকার আদিয়াত এপারেলস লিমিটেড, খেজুরবাগান এলাকার ক্রিষ্টাল কম্পোজিট লিমিটেড, টেঙ্গুরি এলাকার গ্লোরিয়াস ড্রেস লিমিটেডে বেতনের দাবিতে ও কবিরপুর এলাকার পলমল গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে ছাটাইয়ের প্রতিবাদে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা জানায়, এই মাসের প্রথমের দিকে আমাদের বেতন প্রদান করার কথা। কিন্তু বিভিন্ন তারিখ দিয়ে টালবাহানা করছে কারখানা কতৃপক্ষ। একবার বলছে বিকাশে দেবে, একবার বলছে হাতে হাতে দেবে। কিন্তু বিকাশে কিংবা হাতে হাতে কোনভাবেই বেতন দিচ্ছে না। আমরা খুবই অসহায়ভাবে দিন যাপন করছি। আমরা তো ভিক্ষা চাই না, আমাদের কাজের টাকা আমাদের দিতে এতো কষ্ঠ কিসের। আজকের মধ্যেই আমাদের বেতনের টাকা চাই আমরা।

গ্লোরিয়াস ড্রেসেস লিমিটেডের শ্রমিক কামরুল বলেন, আমাদের কারখানায় প্রায় ৪৫০ জন শ্রমিক আছে। গত তিন মাস যাবৎ আসাদের বেতন দিচ্ছে না কারখানা কতৃপক্ষ। এই মাসের ১০ তারিখে আমাদের বেতন পরিশোধের সময় দেয় কতৃপক্ষ। কিন্তু তারা বেতন না দিয়ে আবার ১৬ এপ্রিল সময় দেয়। আর ১৬ এপ্রিল আজ কারখানার সামনে এসে দেখি কারখানা বন্ধ। কতৃপক্ষের কেউ ফোন ধরে না। পরে জিরানী-আমতলা আঞ্চলিক সড়ক বন্ধ করে শ্রমিকরা। এতে অনেক ছোট ছোট যানবাহন আটকে পড়ে।

এ ব্যাপারে গ্লোরিয়াস ড্রেসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলামের এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

এদিকে কবিরপুর এলাকার পলমল গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে ছাটাইয়ের প্রতিবাদে অবস্থান করছে শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানায়, কারখানা থেকে ফোন করে বলছে, আমাদের কারখানায় তেমন অর্ডার নেই, তাই আপনাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এই সময়ে ছাটাই করলে আমরা তো না খেয়ে মারা যাবো। এদের মনে কোন দয়ামায়া নেই। আমাদের জন্য একটু দয়া করুন। এই ছাটাই প্রক্রিয়াকে আমরা মানি না। কারখানা বন্ধের সময় ফোন করে ছাটাইয়ের খবর দেওয়া খুবই কষ্টকর ব্যাপার। আমরা আমাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানায়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম খান বলেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে ৬-৭টি কারখানায় সকাল থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের দিন ধার্য্য করে দেয়া হলে দুপুরের দিকে তারা কারখানার অবরোধ ছেড়ে দেয়।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার