সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

Img

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের কৈখালীতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী ওহিদুজ্জামান পলাতক রয়েছে।

সাতক্ষীরার কাটিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী ওহিদুজ্জামান তার স্ত্রী ডলি খাতুনকে পিটিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাবলু হোসেন নিহত ডলির স্বামীসহ চারজনকে আসামী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ইন্সপেক্টর মিজান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহত ডলি’র মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূর স্বামী ওহিদকে গ্রেফতারের পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

নিহত গৃহবধূর ভাই বাবলু জানান, ডলি’র স্বামী সবসময়ই তার বোনকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

মহাজনদের ঋণের জালে বন্দী পাইকগাছার জেলে পল্লীর বাসিন্দারা

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গহীন সমুদ্রে জীবন জীবিকার জন্য ছুটে যান।দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তারা। কিন্তু তারপরও নেই তাদের নিরাপত্তা।কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ সহায়তা দেয় না। আর মহাজনদের ঋণের জালে বন্দি হয়ে পড়েন তারা। যা তাদের জীবনযাত্রাকে সংকটময় করে তুলেছে। খুলনার জেলে পল্লী গুলো ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাঠী,হেতমপুর, কাটাখালি, হাবিবনগর, নোয়াকাটি, রামনাথপুর,কাঠিপাড়া গ্রামের ৪০০ পরিবার সমুদ্রে মৎস্য আহারনের সঙ্গে জড়িত। এসব জেলে ৪২ হাত দৈর্ঘ্য ও ১২ হাত প্রস্থের নৌকা নিয়ে অক্টোবরের শেষে সমুদ্রে পাড়ি জমান। সেখানকার দুবলার চরের, আলোর কোল, নারকেলবাড়িয়া, এলাকায় মাছ শিকার করেন। আর মার্চ মাসে আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।একশ্রেণীর মহাজনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সুদে দাদন নিয়ে পথে নামেন জেলেরা।এভাবে ৭-৮ জেলের নৌকাপ্রতি খরচ হয় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। প্রতিবছর কোন ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই এ জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ভাসান সাগরের বুকে।

ভুক্তভোগী জেলেরা বলেছেন, টানা ৫ মাস সমুদ্রে মৎস্য আহরণ শেষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন খুলনার জেলে পল্লীর বাসিন্দারা।কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের পরিবারে আনন্দ নেই।  প্রথমবারের মতো জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম(একটি এনজিওর দেওয়া) নিয়ে সাগরে তরী ভাসালেও ঘন বৃষ্টি সহ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে হয়েছে তাদের। আর যারা জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম নিতে পারেনি তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে সাগরেও। তাই বেশি দুর্যোগের শিকার হতে হচ্ছে। এতে সুবিধা বঞ্চিত জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মৎস্য আহরণ করতে পারেনি। ফলে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের জীবনযাত্রাকে সংকটময় করে তুলছে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তির এক অংশ এই জেলে সম্প্রদায়।তাদের দক্ষ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জেলেদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা, ব্যাংক ঋণ ও বীমা সুবিধার বিষয়টি ভাবতে হবে। তবে বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি বেশি বেশি উদ্যোগ প্রয়োজন।কারণ তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, অর্থনৈতিক ভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার