চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মাদার্শা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘মক্কার বলী খেলার’ ১৪০তম আসর বসছে আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে। এটি এক বিশেষ ধরনের কুস্তি খেলা, প্রতি বছরের বৈশাখ মাসের ৭ তারিখে এই খেলার আসর বসে। এ উপলক্ষে মক্কার বাড়ির আশেপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে সপ্তাহব্যাপী চলবে বৈশাখী মেলা। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলবে মেলার কার্যক্রম।

মেলায় দোকানিরা নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। সেখানে খাবার, কাপড়-চোপড়, কসমেটিকসের দোকান ছাড়াও বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসপত্র, নানা কৃষি উপকরণসহ গ্রামীণ পরিবারে সারা বছরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় সামগ্রী পাওয়া যায়। এবারও বলী খেলা দেখতে বিকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার উৎসুক জনতা মক্কার বাড়ি এলাকায় ভিড় জমাবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

জানা গেছে, এবারের আসরে টেকনাফের আলম বলী, খুলনার শিপন বলী, যশোরের কামাল বলীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নামকরা বলীরা অংশ নেবেন। খেলার আয়োজক ও মাদার্শা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল আলম চৌধুরী জানান, ১৪০ বছর আগে তার দাদা কাদের বক্সু চৌধুরী এ খেলার প্রচলন করেছিলেন। দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন বলী খেলা উপভোগ করার পাশাপাশি মেলা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নেন।

তিন শতাধিক বছর পূর্বে তাদের পূর্ব পুরুষ সৌদি আরবের মক্কার বাসিন্দা ইয়াছিন মক্কী ধর্ম প্রচারের উদ্যোশে সাতকানিয়ায় আসেন এবং মাদার্শার পাহাড়ি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে এলাকাটি মক্কা বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি মারা গেলে ইয়াছিন মক্কীর পরবর্তী প্রজন্ম জমিদারি প্রথা চালু করেন।

১৮৭৯ সালে ইয়াছিন মক্কীর নাতি কাদের বক্সু চৌধুরী খাজনা দিতে আসা প্রজা এবং এলাকার লোকজনকে আনন্দ দেয়ার উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম বলী খেলার আয়োজন করেন। এরপর থেকে এটি মক্কার বলী খেলা নামে পরিচিত লাভ করেন। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ৭ তারিখে সবাই দল বেঁধে খাজনা দিতে আসতেন। খাজনা দিতে আসা লোকজন এবং এলাকার মানুষকে আনন্দ দেয়ার জন্য বলী খেলার আয়োজন করতেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, এটি সাতকানিয়ার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মেলা ও বলী খেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।