আজ (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সোনালী অর্জন, স্বনামধন্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বৃহত্তর যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের কৃতি সন্তান, কেশবপুরের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রানপুরুষ, আধুনিক কেশবপুরের রুপকার, কেশবপুর আওয়ামী লীগের সাবেক সফল সংগঠক, দল মত নির্বিশেষে সকলের প্রিয় মুখ, সম্মানিত এবং সর্বজনীন জননন্দিত জননেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আবু শারাফ হিজবুল কাদের সাদেক (এ.এস.এইচ.কে সাদেক) মহোদয়ের ৮৫ তম জন্মবার্ষিকী। তাই আসুন প্রিয় কেশবপুর উপজেলাবাসী তথা সমগ্র দেশবাসী আধুনিক কেশবপুরের রুপকার মরহুম জননেতা জনাব এ.এস.এইচ.কে সাদেক সাহেবের ৮৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার জন্য দোআ করি, পাশাপাশি তার আত্মার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি ও সবাইকে জানাই। 

মরহুম জননেতা জনাব এ.এস.এইচ.কে সাদেক সরকারি আমলা, রাজনীতিবিদ। পুরো নাম আবু শরাফ হিজবুল কাদের সাদেক। ১৯৩৪ সালের ৩০ এপ্রিল যশোরের কেশবপুর থানার বড়েঙ্গা গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা ইয়াহিয়া সাদেক ছিলেন বাংলা সরকারের  যুগ্ম কমিশনার। এ.এস.এইচ.কে সাদেক ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫১ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৫৪ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৫ সালে এম.এ পাস করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকনমিক্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি নীলফামারী ও নারায়ণগঞ্জে মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ সালে তিনি কুমিল­ার জেলা প্রশাসক এবং ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের সচিব এবং ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির মূখ্য সচিব ছিলেন। এমনকি প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী যে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালন করা হয়, তাহা বাস্তবায়নের জন্যও জননেতা সাদেক সাহেব সরাসরি জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার অবদানের শেষ নেই। তাছাড়া সরকারি চাকুরি জীবনে তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নিপা)-এর পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘে ইউনিডোর প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ এবং আঞ্চলিক শিল্প উপদেষ্টা হিসেবে ১৯৭৪-১৯৭৮ সালে কুয়ালালামপুরে, ১৯৮৫-১৯৯০ সালে ব্যাংককে দায়িত্ব পালন করেন। 

তিনি ১৯৮৮ সালে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর এ.এস.এইচ.কে সাদেক রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি সরকারি হিসাব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়াতেন নির্ধিধায় এবং সার্বক্ষণিক জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে গেছেন। তার উদ্যোগ ও অবদানের কারণে আধুনিক কেশবপুরে আজ রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, চিকিৎসা কেন্দ্র, ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট সহ হয়েছে অসংখ্য জানা এবং অজানা অসংখ্য উন্নয়নের রূপকার হচ্ছেন আমাদের সকলের প্রিয়, সকলের শ্রদ্ধাভাজন, প্রকৃত মানবপ্রেমী ও পরিছন্ন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম জননেতা জনাব এ.এস.এইচ.কে সাদেক। শুধু তাই নয় তিনি মাটি ও মানুষের নেতা ছিলেন, তাই তিনি হাঁটে, ঘাটে, পথে, মাঠে  যেকোনো প্রান্তে বিন্দু পরিমান অহংকার ছাড়াই কৃষক ভাইদের সাথে কর্দমাক্ত হাতে মিলিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করতেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ের খোঁজ খবর নিতেন। 

অবশেষে, এই সব সফলতার সাথে মানবপ্রেমী ও জননন্দিত জননেতা ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে কেশবপুর, যশোর, ঢাকাসহ গোটা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষদের কাঁদিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হন।  সত্যি আজও গোটা কেশবপুরবাসি আপনার কাছে ঋণী ও আপনার মতো নেতৃত্ব দানকারী হয়তো আর আমরা আর পাবনা এবং আপনার মতো এমন উত্তম আর কেউ হবেনা। তাই আমরা আজও আপনাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি ও আপনাকেই আমরা আধুনিক কেশবপুর গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা হিসাবে জানি এবং আপনি অমর হয়ে রইবেন চিরকাল কেশবপুরবাসীর অন্তরে।

লেখক, শ্রদ্ধা নিবেদনে ও শুভেচ্ছান্তে:- এম. এম. কাওছার হোসেন (রুবেল) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ (ঢা.ম.উ) শাখা সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন মালদ্বীপ শাখা সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, কেশবপুর সদর ইউনিয়ন শাখা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু তৃণমূল লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও প্রতিষ্ঠাতা, অনলাইন মুজিব সেনা ঐক্য সংঘ।