সরাইলে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ

Img

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) প্রসূতি মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার নাম রত্না বেগম (২৫)। তিনি সরাইল সদরের সৈয়দটুলা গ্রামের দিনমজুর মোমেন মিয়ার স্ত্রী। তিনি ৩ পুত্র সন্তানের জননী।

দুপুরের দিকে মৃত রত্না বেগমের ভাই আসাদ আলী জানান, তিনি তার বোনের লাশ নিয়ে সরাইলে ফিরছেন।

আসাদ আলী অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ মার্চ আমার বোন রত্না বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে সরাইল ডিজিটাল হাসপাতাল নামে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। পরদিন ৭মার্চ নরমাল ডেলিভারিতে রত্না একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রত্নার অবস্থা অবনতি দেখা দেয়। পরে জানা যায় এই হাসপাতালে তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত না থাকায় হাসপাতাল মালিক একজন অনভিজ্ঞ আয়া দিয়ে রত্নার ডেলিভারি করান; এতে ডেলিভারিতে ভুল করায় এ রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি তাদের অনুকূলের বাইরে চলে যাওয়ায় হাসপাতাল মালিকের পরামর্শে রত্নাকে জেলা সদরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি দেখা দিলে চিকিৎসকরা রত্নাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (মঙ্গলবার) তার মৃত্যু হয়।

আসাদ আলী অভিযোগ করেন, সরাইল ডিজিটাল হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ন্যায় বিচার দাবি করেন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সরাইল ডিজিটাল হাসপাতালে প্রথমে আসেন সরাইল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কবির হোসেন ও থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন খন্দকার। পরে এ হাসপাতালে আসেন সরাইল সার্কেল-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান।

হাসপাতাল মালিক ইউনুস মিয়া পুলিশের কাছে প্রথমে দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে মারা যাওয়া রত্না বেগম তার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেই আসেননি; এসময় তিনি বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করেন এবং পুলিশকে সঠিক তথ্য না দিয়ে উল্টাপাল্টা বুঝাতে থাকেন। পরে লাশের সঙ্গে থাকা এ প্রাইভেট হাসপাতালের কাগজ দেখে স্বজনরা মুঠোফোনে পুলিশকে তথ্য প্রদান করলে হাসপাতাল মালিক ইউনুস মিয়া বেকায়দায় পড়ে যান এবং এ রোগীর কথা স্বীকার করে বিস্তারিত জানান পুলিশকে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা।

এ ব্যাপারে সরাইল সার্কেল-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সরাইল ডিজিটাল হাসপাতালে যায়। পরে আমিও সেখানে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

তিনি বলেন, লাশের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র নিয়ে স্বজনরা আমাদের কাছে এলে অবশ্যই আমরা যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেব।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার