সরবরাহ কম হওয়ায় অস্থির খুলনার মাছের বাজার

Img

মাছে-ভাতে বাঙালী পরিচিতি বহনে যেন মাছ ছাড়া মুখে খাবার তোলাটা কেমন বেমানান, বেমানান মনে হয়। তাই যে কোনো আয়ের বা শ্রেনির মানুষ হোক না কেন, দুপুর অথবা রাত, খাবারে যেন মাছ চাই-ই-চাই।

যদিও সম্প্রতি সময়ে বহুমুখি সংকটে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো। বাড়ছেনা সাধারণ কর্মজীবি মানুষের আয়। তবে আয়ের বিপরীতে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষন আর আহার যোগাতে হিমশীম খাচ্ছেন তারা। খেলেও নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ করতেই হচ্ছে। আর এই সকল পণ্যে সরবরাহের প্রথম সারির তালিকায় রয়েছে আমিষ খাদ্য মাছ।

সম্প্রতি সময়ে নগরীর মাছ বাজার অস্থির অর্থ্যাৎ দাম অনেকটাই ক্রেতার নাগালের বাইরে। ক্রেতাদের কাছে মাছের দাম বিগত দিনের তুলনায় বর্তমানে অনেটাই বেশি আর লাগামহীন মনে হচ্ছে।

বাজারে আসা অধিকাংশ ক্রেতাগণ বলছেন, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতে জেলেরা সমুদ্রে নামতে পারিনি, আবহাওয়ার প্রতিকূলে থাকায় মোকামে মাছ সরবরাহ ছিল কম, যে কারণে মোকামে মাছ সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয় বাজার গুলোতেও মাছের অনেকটাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, তাই সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা বেশি , পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ঘের ভেড়িবাঁধ তলিয়ে যাওয়ার দরুন স্থানীয় মৎস আড়ৎ গুলোতেও মাছের সরবরাহ কম।

ঈদের ইতিমধ্যে ১৪টা দিন গত হলেও অনেকে বাসা বাড়িতে এখনো ঈদের আমেজ চলছে। কারণ ঈদের সময়ে যারা বাড়তি চাপাচাপির জন্য রাজধানী ঢাকা হতে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদে একত্রিত হতে পারেনি, তারা অনেকেই এখন রিলাক্সে আসছে বাবা মায়ের বাড়ীতে ঈদের ছুটিতে নগরীর স্থানীয় বাসিন্দারা ঈদ শেষে এখন স্বাভাবিক খাবার বিশেষ করে মাছ ও সবজির উপর বেশে আগ্রহী। যে কারনে বর্তমানে স্থানীয় মাছ বাজারে আমিষের উৎস মাছ যেন অনেকটাই সোনায় সোহাগা। শুক্রবার সকালে নগরীর বিভিন্ন মাছ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। নগরীর মাছ বাজার গুলোতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্নিঝড় অশনীর আগে প্রচুর পরিমানে দেশি ও সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ দেখা গেছে, তবে দূর্যোগ কাটতে না কাটতে বাজারে সামুদ্রিক মাছসহ দেশি মাছের সরবরাহ কম।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, কয়েকদিন আগের তুলনায় বর্তমানে বাজারে মাছ কম, এবং দাম বেশি। অনেকটাই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

এ কথার বিপরীতে ব্যবসায়ীরা জানান, যেমন দামে সরবরাহ করা হচ্ছে তা হতে কেজি প্রতি ৭ হতে ১০ টাকা বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের নিকট হতে তার মধ্যে খরচ খরচা তো আছেই। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সামুদ্রিক মাছসহ স্থানীয় আড়ৎ গুলোতেও মাছের সরবরাহ কম।

নগরীর দৌলতপুর ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজার গতকাল শুক্রবার ছিল উপচে পড়া ভীড়। মাছ বাজারে ইলিশ, রুই, পাবদা, গলদা চিংড়ি, কই, তেলাপিয়া, গ্লাসকার্প, মিনারকাপ, ভেটকি, সামুদ্রিক মাছ, মৃগেল, কাতলা, পাঙ্গাস, বাইন, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ বিক্রি হয়েছে।

তবে বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, বাজারে দেশি ও সামুদ্রিক মাছের যথেষ্ট সরবরাহ থাকলে দাম নাগালের বাইরে। ইলিশ প্রতিকেজি ১২০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের কেজি ১০০০ টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের কেজি ৯০০ টাকা, ৩ পিসে কেজি ৮০০ টাকা, ঝাটকা ৬/৭’শ টাকা, রুই মানভেদে ২০০ হতে ৪৫০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৭০০ হতে ১২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০-১২০ টাকা, লাইলোটিকা বড় ১৫০-২৫০ টাকা, ভেটকি মানভেদে ৫০০ হতে ৭০০ টাকা, সামুদ্রিক পারসে ৩০০ টাকা, কংকন মানভেদে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ২৫০-৫০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০-২৫০ টাকা, বাইন ৩০০-৬০০ টাকা, ট্যাংড়া ৪০০-৬০০ টাকা, সামুুদ্রিক ভাঙ্গন ৪০০ টাকা, সামুুদ্রিক ট্যাংরা ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ বিক্রেতা জয়নাল বলেন, আমরা খুলনা নতুন বাজার হতে মাছ কিনে এনে বিক্রি করে থাকি। পাইকারি বাজারে ইলিশের মাছ সরবরাহ কম। তাই দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। কারণ কয়েকদিন ধরে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে জেলেরা সমুদ্রে নামতে পারেনি।

অপর বিক্রেতা মিন্টু জানান, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতে জেলেরা সমুদ্রে নামতে পারিনি, আবহাওয়ার প্রতিকূলে থাকায় মোকামে মাছ সরবরাহ ছিল কম, যে কারণে মোকামে মাছ সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয় বাজার গুলোতেও মাছের অনেকটাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, তাই সরবরাহ কম থাকায় মাছের নাম কিছুটা বেশি , পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ঘের ভেড়িবাঁধ তলিয়ে যাওয়ার দরুন স্থানীয় মৎস আড়ৎ গুলোতেও মাছের সরবরাহ কম। বাজারে অন্য সময়ের তুলনায় মাছ সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতাদের নিকট মাছের দাম বেশি মনে হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতা অসিম বলেন, বাজারে এসেছি মাছ ও সবজির কেনার জন্য দু’টোই যেন অস্থির। মাছের দাম অত্যন্ত বেশি। গত কয়েকদিন আগে যে দামে মাছ কিনেছি, বর্তমানে তা নাগালের বাইরে। বাজারে এসে চিড়িং মাছের দাম শুনে হতবাক। যে মাছ ৫০০ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে তার দাম ৭০০ টাকা কেজি।

বাজারে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি মাছের এমন লাগামহীন দামে সল্প আয়ের মানুষেরা অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার