শেরপুরে মৃৎশিল্পীদের টিকে থাকার লড়াই

Img

এক সময়ে গ্রামাঞ্চলে কদর ছিলো মাটির তৈরি পণ্যসামগ্রীর। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির সামগ্রী প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বাপ-দাদার পেশাকে আঁকড়ে ধরে এখনো কয়েকটি পরিবার তৈরি করে চলছেন কাদামাটির পণ্যসামগ্রী।

সরেজমিনে বগুড়ার শেরপুর  উপজেলার গাড়িদহ  ইউনিয়নের  চন্ডীজান (পালপাড়া) গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাটির পণ্য থালা-বাটি, সরা-বাসন, হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, প্রভৃতি জিনিসপত্র তৈরির চিত্র।

এ সময় থালা-বাসন বিক্রয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় বাবুল কুমার জানায়, দেড় দশক আগে চন্ডীদান  পালপাড়া এলাকাস্থ প্রায় ২শ পরিবারের একমাত্র পেশা ছিল মাটির পণ্যসামগ্রী তৈরি।

এ পেশা দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। চলছিল তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় কদর কমেছে এ শিল্পের। যার ফলে এ পেশা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে অধিকাংশ পরিবার। এখন মাত্র ১০/১২ টি পরিবার কোনোমতে ধরে রেখেছে তাদের বাপ-দাদার পেশাটি।

মৃৎশিল্পের কারিগররা জানায়, বিভিন্ন স্থান থেকে দোআঁশ মাটি সংগ্রহ করতে হয়। এসব মাটিও কিনতে হয় টাকা দিয়ে। এক ট্রলি  মাটির দাম ৭’শ /৮’শ টাকা। এসব মাটি দিয়ে থালা-বাটি, সরা-বাসন, পুতুল, ঘোড়াসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে থাকেন। একটি চাকের মাধ্যমে কাদামাটিতে বানানো হয় পণ্যসামগ্রী।

এরপর রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়ানো হয় ভাটায়। সেখান থেকে বের করে রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলায় বিশেষ পণ্যগুলো। সেগুলো বাজারজাতে নিতে আসেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় নিজেরাই ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রি করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। এতে যেটুকু আয়-রোজগার আসে, তা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

মাটির পণ্য তৈরির কারিগর গোকুল কুমার পাল জানান, অতীতে গ্রাম-গঞ্জে মাটির তৈরি পণ্যসামগ্রীর কদর ছিল অনেক বেশি। এসব পণ্য শোভা পেত প্রত্যেক বাড়িতে। এছাড়া গৃহস্থালির নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদি, পুতুল, খেলনা, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ফুলের টপসহ অসংখ্য জিনিস আজও তৈরি করে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে ইদানিং প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন তা হারিয়ে যেতে বসেছে।

আরেক কারিগর চন্দন কুমার পাল বলেন, টানা এক বছরে করোনার থাবায় থমকে গেছে পণ্যসামগ্রী বানানোর কাজ। বিদ্যমান পরিস্থিতির শিকার হলেও, কোনো ধরনের প্রণোদনার সুবিধা আমাদের কপালে জোটেনি।

তিনি আরও বলেন, এখন এটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত জরুরি। কেননা, সরকার যদি মৃৎশিল্প গোষ্ঠীকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে পারে, তাহলে এ শিল্পে টিকে থাকা সম্ভব।

গাড়িদহ  ইউপি চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন বলেন বলেন, আগে পাকা রাস্তা এবং ব্রিজ না থাকায় কাঁচা রাস্তায় তাদের যোগাযোগে অনেক  অসুবিধা হতো ফলে মাটির তৈরি বাসনপত্র  আনা নেওয়ার সময় তাদের অনেক হাড়ি পাতিল ভেঙ্গে যেত বর্তমানে তারা অনেকেই সচ্ছল জীবন যাপন করছেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার