শেবাচিম ইন্টার্ন চিকিৎসক-কর্মচারীদের বিরোধ তুঙ্গে, ধর্মঘটের হুমকি

Img

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের দুই ওয়ার্ডবয়কে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় কঠোর বিচারের দাবিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আল্টিমেটামের পর এবার নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্তকারী ওই ওয়ার্ডবয়দের বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয়দের বিচারের দাবিতে শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টায় হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসময় তারা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্তকারীর বিচার না হলে সরাসরি ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন তারা। অপরদিকে দুই ওয়ার্ডবয়কে হোস্টেলে নিয়ে নির্যাতনকারীদের কঠোর বিচার না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও।

দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে করোনকালেও অনেকটাই অচলাবস্থার মুখে পড়তে যাচ্ছে শেবাচিম হাসপাতাল। যদিও দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল প্রশাসন।

জানা যায়, গত ২৮ জুন রাতে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন জরুরি বিভাগের বাদশা নামে এক ওয়ার্ডবয়কে দেখতে যান অপর দুই ওয়ার্ডবয় মো. দিদারুল ইসলাম ও মো. নুরুল ইসলাম। এসময় চিকিৎসকদের কক্ষে থাকা এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে তারা উত্ত্যক্ত করে। করোনায় আক্রান্ত ওই চিকিৎসক এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সহকর্মীদের জানান।

এ ঘটনার জেরে ২৯ জুন রাতে ওয়ার্ডবয় দিদার ও নূরুলকে ইন্টার্ন হোস্টেলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩০ জুন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন প্রবাসীর দিগন্তকে জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গভীর রাতে করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দুই সহকর্মীকে ইন্টার্ন হোস্টেলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। দুই পক্ষের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার