শিশুর দাঁতের যত্ন ও মাড়ির যত্ন নিতে যা করবেন

Img

সকালে উঠে কি দাঁত মাজতে ভুলে যায় আপনার বেবি? মাঝে মধ্যেই দাঁতে ব্যথায় কি কাঁদে সে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একটাই। তা হল- হ্যাঁ। তখন আর বিশেষ কিছু না ভেবেই ডাক্তারের কাছে ছোটেন। কিন্তু, ভেবে দেখেছেন কি কখনও, কেন হচ্ছে দাঁতে ব্যথা? এত অল্প বয়সেই কেন হচ্ছে  বিভিন্ন দাঁতের অসুবিধা? চলুন জেনে নিই, একদম শিশু অবস্থা থেকে কি করে আপনার ছোট্ট সোনার মাড়ির ও দাঁতের যত্ন নেবেন।

শিশুর আশেপাশের জিনিস পরিষ্কার রাখুন
নতুন দাঁত গজানোর সময় অনেক শিশু কিছু অস্বস্তি অনুভব করে। মাড়ি কিড়মিড় করে। হাতের কাছে যা পায় তাই কামড় দেয়ার চেষ্টা করে। তাই এ সময় শিশুর আশেপাশের জিনিস, খেলনা পরিষ্কার রাখতে হবে। এসব জিনিস প্রতিদিন ডেটল বা অন্য জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

খাওয়ার পর দাঁত ও মাড়ি হালকা ভাবে মুছে দিন
শিশুকে অন্য খাবার খাওয়ানো শুরু করলে ল্যাকটোজ, গ্লুকোজ ও অন্যান্য পলিস্যাকারাইয দীর্ঘ সময় ধরে দাঁতের সংস্পর্শে থাকে। মুখের এই এই খাবারগুলো পরিষ্কার করা না হলে ক্যালসিয়ামের সাথে স্যালাইভা মিশে মিনারেল, ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে খাবারের ফার্মেন্টেশন হয়। এতে ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয় এবং এটি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে।

এর ফলে দাঁতের ক্যারিজ বা ক্ষয়ের শুরু হয়। তাই দুধদাঁত হওয়ার পর থেকে খাওয়ানোর পর আঙুল বা পাতলা কাপড় দিয়ে শিশুর দাঁত ও মাড়ি হালকা ভাবে মুছে দিতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে তা অবশ্যই করতে হবে। 

বোতল ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন
শিশুদের বোতলে দুধ না খাওয়ানোই ভালো। বোতলে দুধ খাওয়ালে দাঁতের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে দাঁত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই চকলেট, চুইংগাম, ক্যান্ডি এসব খাবার পরিহার করা উচিত। এসব খেলেও সাথে সাথে পানি দিয়ে মুখ কুলকুচা করে নিতে হবে।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশের অভ্যাস করান
ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে দুধদাঁত পড়ে যায় এবং নতুন স্থায়ী দাঁত হয়। শিশুদের অবশ্যই নিয়মিত দাঁত ব্রাশের অভ্যাস করতে হবে। ছোট থেকেই যদি পিতা-মাতা সন্তানকে নিয়ে দিনে দুবার ব্রাশ করে তাহলে পরবর্তী সময়েও এই অভ্যাস থেকে যাবে। তাই অভিভাবককে এই দিকে নজর দিতে হবে।

ব্রাশ করার সময় ভিতরের দাঁতগুলোও যেন ভালোভাবে পরিষ্কার করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই নরম ব্রাশ দিতে হবে এবং তিন মাস পর পর তা অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। দাঁত নড়ে গেলে টেনে না তুলে দন্ত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। দাঁতে ব্যথা, মাড়ি ব্যথা, কালো দাগ, মুখে গন্ধ ইত্যাদি সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার