Small changes can produce big results but the areas of highest leverage are often the least obvious. (ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলি বড় ফলাফল সৃষ্টি করতে পারে-তবে সর্বোচ্চের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যসাধনের উপায় প্রায়ই কম সুষ্পষ্ট হয়)। এক জন শিক্ষককে অবশ্যই ছাত্র-ছাত্রীদের মন বুঝতে হবে। নিজের শিখবার আগ্রহ থাকতে হবে। কারন নিজের শিখবার আগ্রহ না থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিখবার আগ্রহ তৈরী করতে পারবেন না। ভাল ভাবে বুঝানোর টেকনিক থাকতে হবে। ভাষা এবং উচ্চারন মান সম্মত হতে হবে। আচার আচরনে ভদ্র হতে হবে। মিশুক হতে হবে। সততার আদর্শ থাকা অপরিহার্য। নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। ধৈর্যশীল হতে হবে। আদর আর শাসনের সমন্বয় থাকতে হবে।

আমি যতদিন শিক্ষকদের সংষ্পর্শে থাকার সৌভাগ্য পেয়েছি ততদিন এসবের কোন কমতি দেখিনি। কিন্তু হাল আমলের শিক্ষকদের মাঝে এসবের ঘারতি পরিলক্ষিত হয়। যার দরুন শিক্ষকদের নিয়ে প্রশ্ন উঠে। শিক্ষকরা হবেন বিবেক সম্পন্ন মানবিক গুনের অধিকারী। তাদের ব্যক্তিত্বে ও আদর্শে একজন শিক্ষার্থী তার জীবনকে উজ্জীবিত করতে পারবে। শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর কান্ডারী যে শিক্ষার্থীকে সঠিক পথ দেখাবেন। কিছু শিক্ষককে দেখে অন্যান্য শিক্ষকদের শেখা উচিত মানবিকতা, উদারতা, ধৈয্যশীলতা, ক্ষমাপরায়নতা, সন্মানবোধ কাকে বলে।

যিনি শিখান, শিখেন, সমাজ পরিবর্তনের উপকরন সরবরাহ করেন তিনিই তো শিক্ষক। দোহার থানা বিদেশী রেমিটেন্স নির্ভর। প্রচুর নগদ অর্থ প্রতিটি পরিবারে। কিন্ত সেই অনুপাতে শিক্ষার হার খুবই কম। আবার যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তাদের অধিকাংশ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সে কারনে দোহারের স্কুল কলেজ গুলিতে দোহারের বাইরের শিক্ষকই বেশি। এই বাইরের জেলার শিক্ষকরাই দোহারের শিক্ষার পরিবেশটার ভারসাম্য বজায় রাখছে।

স্থানীয় যে শিক্ষক গুলি আছে তাদের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলাদলী, স্কুলে নিজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যস্ত। বাইরের শিক্ষকদের যে স্থানীয় রাজনীতিতে লিডিং পাওয়ার নাই তা কিন্ত নয়। কিন্তু তারা এ অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে আসেনি, তারা এসেছে এই অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে অংশীদার হতে। Peter M. Senge এর The fifth discipline’ বইয়ে একটা উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, “Leader as teacher’ is not about ‘teaching’ people how to achieve their vision. It is about fostering learning, for everyone. Such leaders help people throughout the organization develop systematic understanding.”

একজন শিক্ষক যখন কেবল মাত্র শিক্ষক তখন কেবলমাত্র পঠন-পাঠন কার্যক্রম পরিচালনা, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক নিয়মিত দায়িত্ব পালনই এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু একজন শিক্ষক যখন নেতা, অর্থাৎ নেতৃত্বের গুণাবলির ছোঁয়া তার ভেতর থাকে তখন শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজেকে দাঁড় করাতে পারেন একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে। কাজেই শিক্ষককে তার শিক্ষণ-শিখন দক্ষতার সাথে নেতৃত্বের গুণাবলীও রপ্ত করা চাই।

একজন শিক্ষককে বর্তমানের প্রচলিত জ্ঞান সম্পর্কে নিজেকে হালনাগাদ রাখা জরুরী ছিল।একজন শিক্ষক তখনই একজন স্বার্থক শিক্ষক যখন তিনি একজন ““life-long learner’. শিক্ষকের জ্ঞান সম্পর্কে পিপাসা, সৃজনশীল মনোভাব এবং সময়ের সাথে শিক্ষকতার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেকে পরিবর্তন করে চলা শিক্ষককে এগিয়ে নিয়ে যায় আরও অনেকখানি ধাপ উপরে। আর সেখানেই একজন শিক্ষক প্রকৃত অর্থে নেতা হয়ে উঠতে পারেন।

যোগাযোগের দক্ষতা। একটা স্বার্থক শিক্ষণ-শিখন পরিবেশ গঠনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক সঠিক তথ্যটি নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে তা শিক্ষার্থীদের সাথে আদান-প্রদান করেন। এক্ষেত্রে শিক্ষকের তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী জ্ঞান থাকতে হয়। You cannot learn unless you listen”. কাজেই শুনতে হবে সহকর্মী থেকে শিক্ষার্থী সকলের কথা। একজন ভালো শ্রোতা নতুন ধারণা, পদ্ধতি, নীতিমালা গ্রহণে সদা প্রস্তুত থাকেন। একই সাথে নতুন জ্ঞানকে গ্রহণ ও আদান-প্রদান করা, সহকর্মীদের সাথে একটা বিশ্বস্ত সম্পর্ক স্থাপন, রিসোর্স প্রভাইড করা, শিক্ষাক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, উপস্থাপনের দক্ষতা, শ্রেণীকক্ষে সহযোগী মনোভাব, বিদ্যালয়ে লিডারশিপ ধারণা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট জ্ঞান, পরিবর্তনশীল মনোভাব, প্রেষণা প্রদান, পরিকল্পনা প্রণয়ন, সাংগঠনিক দক্ষতা, সমন্বয় সাধনের দক্ষতা ইত্যাদিকে শিক্ষার্থীর সামর্থ্য বৃদ্ধিতে শিক্ষকের গুণাবলি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শিক্ষকতা একটি মহান ব্রত। শিক্ষক সমাজের শ্রেষ্ঠ মডেল। শিক্ষকের সমস্ত আচরণ সমাজকে প্রভাবিত করে। এই জন্য শিক্ষকের আচরণ হতে হবে শ্রেষ্ঠ আচরণ। কিন্তু বর্তমানে কিছু অযোগ্য লোক এই পেশায় ঢুকে পেশার মর্যাদাহানি করছে, এদের কারণে দেবতার মত শিক্ষকেরা আজ পথে ঘাটে অপমানিত হচ্ছে।

সমাজ শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদা দিচ্ছে না, ফলে অনেকে শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। অযোগ্য লোকদের আধিক্যে সমাজের কিছু চিহ্নিত লোক শিক্ষকদেরকে ক্রিমিনাল বানাবার চেষ্টায় রত। কিন্তু সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা না থাকলে, তাদের পক্ষে সুশিক্ষিত জাতি গঠন করা সম্ভব নয়। শিক্ষক রাজনৈতিকভাবে সচেতন হবেন, কিন্তু কোন পক্ষের হবেন না। রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে যেতে হবে।

তাই একজন শিক্ষক কতটা জানে, সেটা বেশি জরুরী না, জরুরী হচ্ছে যে, যে টুকু জানে তা যেন সঠিক ভাবে সবার মাঝে উপস্থাপনা করতে পারে। সবাইকে সুন্দর ভাবে বুঝাতে পারে। এমন পরিবেশই দরকার স্কুল গুলিতে।