শাজাহানপুরে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

Img

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঝটিকা মানববন্ধন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাঝিড়া স্ট্রান্ডে মানববন্ধনে অংশ নেয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানুষ। 

মানববন্ধনে আগতরা বলছেন, বগুড়া ৭ আসনের (শাজাহানপুর ও গাবতলী) বিএনপি সমর্থিত সাংসদ রেজাউল করিম বাবলুর প্রতিনিধি শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম তাদের মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়েছেন। এই ঘটনাকে গভীর সড়যন্ত্র বলে দেখছেন উপজেলা প্রশাসন। সড়যন্ত্রে উপজেলা যুবলীগের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। মানববন্ধনে উপস্থিত উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলার খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম মহব্বত, সাবেক বিএনপি নেতা আব্দুল বাসেদ রঞ্জু প্রমুখ।

জানাযায়, গত ২৯ জুন সাংসদের টিআর প্রকল্প জমাদেয়ার শেষ দিন ছিলো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে প্রকল্প এবং প্রকল্প কমিটির কাগজ জমা দেয়ার শেষ দিন ছিলো। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্প শেষ করার বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের আবেদন জমা না দেয়া এবং কাজ শুরু না হওয়ায় ২৪টি প্রতিষ্ঠান টিআর বরাদ্ধ থেকে বঞ্চিত হয়। এই ঘটনার দীর্ঘ ৪মাসের শেষে গতকাল বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জনগণের ব্যানারে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। 

বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইয়াছিন আলী জানান, তিনি কাবিখা প্রকল্পের জন্য সংসদ সদস্যকে ৩০হাজার টাকা দিয়েছেন। টিআর প্রকল্পের জন্য কোন টাকা দেন নাই। এমপির প্রতিনিধি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম তাকে মোবাইল ফোনে মানববন্ধনে ডেকেছেন।

উপজেলার শৈলধুকরী মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রহমান সহ অনেকে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দেয়ায় তারা টিআর প্রকল্প পাননি। নজরুল ইসলাম তাদের মোবাইল ফোনে মানববন্ধনের জন্য ডেকে ছিলেন। 

প্রকল্প বাস্ত বায়ন অফিসার আব্দুল জোব্বার জানান, নির্দিষ্ট সময়ের পরে আবেদন করে কোন কাজ হবেনা। এতদিন পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা একটা সড়যন্ত্র।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভীন জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। এটা সড়যন্ত্র করা হয়েছে।

মানববন্ধনে উপস্থিত সাংসদের শ্যালক সাবেক বিএনপি নেতা আব্দুল বাসেদ রঞ্জু জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো  প্রকল্প বঞ্চিত হয়েছে তাই তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।

সাংসদের প্রতিনিধি পরিচয় নিশ্চিত করে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি কাউকে ফোন করে ডাকেন নি।

এ ব্যপারে তার কিছুই জানা নেই। যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম মহব্বতের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মীরা বলেন, মানববন্ধন সরযন্ত্রের অংশ। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যুবলীগের কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তাকে বহিস্কার করা হবে। বিএনপি সমর্থিত সাংসদের পিএস যুবলীগের কেউ মেনে নেয়া হবেনা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার