লেবু খোসার উপকারিতা

Img

লেবু ভিটামিন সির অন্যতম একটি উৎস। সেই কবে থেকে খাবারের সাথে লেবুর খাওয়ার চল চলে আসছে। শুধু খাবারের সাথে নয়,  মানবদেহের নানা উপকারের জন্য এখন লেবু অপরিহার্য। আমরা লেবু খাওয়ার পর তার খোসা ফেলে দেই। কিন্তু এই ফেলে দেওয়া খোসারও রয়েছে নানা উপকারিতা। আসুন পাঠক সে সম্পর্কে জেনে নেই।

ত্বক উজ্জ্বলকারী বডি স্ক্রাব
খাবারের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও বেশ উপকারি লেবুর খোসা। এক মুঠো লেবুর খোসার সঙ্গে ১-২ কাপ চিনি দিয়ে ভালো ভাবে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর আপনার ত্বকের ধরন বিবেচনা করে তাকে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের চেয়ে শুষ্ক ত্বকে বেশি তেল দিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি তৈরির পর তা ভেজা ত্বকে আলতোভাবে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। এবার পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এ স্ক্রাব ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখাবে এবং ত্বকের মৃত কোষগুলোকে জীবিত করে তুলবে। এই স্ক্রাবটি শুকনো কনুইকেও নরম করতে সহায়তা করবে। সপ্তাহে একবার লেবুর খোসার স্ক্রাব লাগাতে পারেন।

ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার
এক চিমটি লেবুর খোসার গুঁড়োর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ চালের গুড়ো মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি ঠাণ্ডা দুধ দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকের মৃত কোষগুলোকে জীবিত করতে এই পেস্টটি মুখের ভেজা ত্বকে সমানভাবে মেখে দিন। ১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এ ফেস প্যাকটি আপনার ত্বক-কোষকে চাঙা করে তুলবে।

পা ফাটার চিকিৎসা
এক কাপ লেবুর খোসা গুঁড়ো করে নিন এবং তাতে পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার তৈরি করা পেষ্টটি ফাটা পায়ে লাগিয়ে নিন। এরপর পায়ে মোজা পড়ে নিন ও কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। পা ধুয়ে ফেলার পর পায়ের ত্বক নরম এবং স্বাস্থ্যকর দেখাবে।

পায়ে ছত্রাকের সংক্রমণ রোধ
তিন কাপ লেবুর খোসা, ৬ থেকে ৭ কাপ পানি দিয়ে আধা ঘণ্টা সিদ্ধ করুন। এরপর সিদ্ধ পানি একটি পাত্রে ছেঁকে নিন। সেখানে দুধ বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটিতে কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন এবং ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। নিয়ম করে এই কাজটি করলে সংক্রমণ দূর করতে সহায়তা করবে।

নখ সাদা রাখতে
যারা নখ বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য লেবুর খোসা বেশ উপকারি। এক  মুঠো লেবুর খোসা পেস্ট করে নিন এবং তা কয়েক মিনিটের জন্য বিবর্ণ নখগুলোতে ব্যবহার করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ ধরনের যত্ন আপনার নখগুলোকে স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

গৃহস্থালির কাজেও লেবুর খোসা ব্যবহার করা যায়। যেমন-

সব ধরনের পরিচ্ছন্নতায়
জীবাণুমুক্ত রাখতে পরিষ্কারক হিসেবেও লেবুর খোসা ব্যবহার করতে পারেন। যা করতে হবে, প্রথমে লেবুর খোসাগুলোকে পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিন এবং ছেঁকে নিন। এবার অ-বিষাক্ত ডিআইওয়াই ক্লিনার তৈরি করতে এই পানির সঙ্গে প্রয়োজন মতো ভিনেগার বা বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এরপর এ পানি দিয়ে ঘরের আসবাবপত্র, মেঝে এবং অন্যান্য ব্যবহার্য তৈজসপত্র পরিস্কার করুন। লেবুর খোসায় থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলোর দাগ তুলে ফেলার ক্ষমতাও রয়েছে।

দুর্গন্ধ দূর করতে
ফ্রিজ, বদ্ধ ড্রয়ার কিংবা ট্র্যাশ ক্যান ইত্যাদির ভেতরে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ দূর করতে লেবুর খোসা বেশ কার্যকর। লেবুর খোসা মাইক্রোওয়েভ, কাটার বোর্ড এবং অন্যান্য ব্যবহার্য পাত্র পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে যাদুর মতো কাজ করে থাকে। বাটির পানিতে কয়েকটি লেবুর খোসা দিয়ে কিছু সময়ের জন্য মাইক্রোওয়েভের ভেতরে রেখে দিন। এটি মাইক্রোওয়েভের ভেতরের দুর্গন্ধকে সতেজ গন্ধে পরিণত করবে। আর কাটার বোর্ডকে জীবাণুমুক্ত করতে লেবুর খোসার সঙ্গে লবণ মিশিয়ে ঘষুন। তারপরে ধুয়ে ফেলুন।

 রুম ফ্রেশনার হিসেবে
লেবুর খোসা ব্যবহার করে ঘরেই তৈরি করুন প্রাকৃতিক রুম ফ্রেশনার। শুকনো ফুল এবং প্রয়োজনীয় তেলের সঙ্গে লেবুর খোসা মেশান। এবার এ সাইট্রাস-সুগন্ধযুক্ত মিশ্রণটি পরিষ্কার একটি স্প্রে বোতলে রাখুন। এভাবে আপনি ঘরকে সবসময় সুবাসিত রাখতে পারেন।

পোকা-মাকড় তাড়ায়
বাড়িতে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে বিকল্প হতে পারে লেবুর খোসার ব্যবহার। বিশেষ করে পিঁপড়া, তেলাপোকা ইত্যাদি লেবুর গন্ধ সহ্য করতে পারে না। সুতরাং, আপনি আপনার ঘরের কোণে বা যেখানে পোকামাকড়ের উপদ্রব আছে সেখানে লেবুর খোসা ছড়িয়ে রাখতে পারেন। মশার মতো পোকার হাত থেকেও আপনার ত্বককে বাঁচাতে পারে লেবুর খোসার ব্যবহার।
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার