লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেওয়ার’ হুমকিও দেয়া হয়

Img

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ এরফান সেলিমের বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র, মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। এছাড়া বাসার ভেতর থেকে বেশকিছু ওয়াকিটকিও জব্দ করা হয়েছে। 

জানা গেছে, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এসব ওয়াকিটকি দিয়ে আশপাশের ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনভর উদ্ধার অভিযান শেষে সন্ধ্যায় র‌্যাবের লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

আশিক বিল্লাহ জানান, অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে তাকে পৃথকভাবে ১ বছরের (৬ মাস করে) সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বাসা থেকে অবৈধ বিদেশি অস্ত্র (পিস্তল) ও বিদেশি মাদক উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করবে।

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইরফানের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধ জিনিসপত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। বাসায় খাটের জাজিমের নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৫/৬ লিটার (৭ বোতল) বিদেশি মদ, ৭/৮ বোতল বিদেশি বিয়ার, একটি লাইসেন্সবিহীন এয়ার গান, একটি হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে ইরফানের বাসা থেকে অবৈধ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন ধরণের ৩৮/৪০টি ওয়াকিটকি, একটি ওয়াকিটকি বেইজ স্টেশন, ওয়াকিটকি সেন্টার ও আধুনিক ওয়াকিটকি সেন্টার ভিএইচএফ সিন্টেম ডিভাইস ৩টি উদ্ধার করা হয়। সেইসঙ্গে একটি নেটওয়ার্ক জেমার পাওয়া যায়। এসব সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ইরফার তা অবৈধভাবে ও অনুমোদনহীনভাবে নিজ বাড়িতে রেখে ও ব্যবহার করে আসছিল।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জনান, আমরা তথ্য পেয়েছি পুরান ঢাকা এলাকার চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে এসব অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার করতেন ইরফান।


তিনি আরও জানান, এ ভবনের একটি ফ্ল্যাটে টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছি। সেখানে টর্চার চালানোর বিভিন্ন ধরনের সামগ্রিও আমরা পেয়েছি। এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কেউ যদি অভিযোগ দেয়, তবে র‌্যাব তার আমলে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ‌্যায় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে এরফানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেখানে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে এরফানের গাড়ির চালক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজন ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করতে করতে নেমে আসে এবং ‘মারধর’ শুরু করেন। তারা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেওয়ার এবং হত্যার’ হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার