লাইলাতুল কদরে ইবাদতে মশগুল মুসল্লিরা

বিষয়: পবিত্র মাহে রমজান ২০২১
Img

পবিত্র শবে কদর এর এই রাতে গুনাহ মাফ হয়। বান্দার ওপর স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হয়। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময় এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের এই রাতে ইবাদত করলে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এ কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সওয়াব হাসিল ও গুনাহ মাফের রাত হিসেবে শবে কদরের গুরুত্ব অনন্য।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। ২৬ রমজান দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত। কোরআন ও হাদিসে কদরের রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। এ রাতে আকাশের ফেরেশতারা নেমে আসেন ভূপৃষ্ঠে।

মহিমান্বিত এ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় কোরআন তেলাওয়াত, নফল ইবাদত ও জিকির-আসগারের মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রোববার রাতে নিজেদের গুনাহ মাফ, বরকত কামনাসহ দেশ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধ লাভে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনায় চোখের পানি ফেলছেন মোমিন বান্দারা।

তারাবির পরেই মুসল্লিরা কদরের নফল ইবাদত শুরু করেছেন। আজ রাতভর ইবাদত করবেন মুসল্লিরা। এ রাতে গভীর আবেগে আপ্লুত হচ্ছে প্রত্যেকটি মুমিনের হৃদয়। মহান রজনীতে মহান আল্লাহর করুণা লাভের আশায় ব্যাকুল হয়ে উঠছে সব মুমিন মুসলমানের হৃদয়।

হাদিস শরিফে বলা আছে, ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ইমাম আযম আবু হানিফার মত।

শবে কদরের এ রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআন শরিফে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল করা হয়।

এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তাই এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াবের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন। শবে কদর উপলক্ষে সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার