লজ্জার হার বাংলাদেশের

Img

ওয়ানডের পর টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ করেছে পারফেক্ট এক গ্রীষ্ম। করোনাকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট, টি-২০ সিরিজ জয় দিয়ে শুরু করেছিলো কিউইরা।

এরপর তাসমান সাগরের দেশে পাত্তা পায়নি পাকিস্তানও। দুই ফরম্যাটেই কেন উইলিয়ামসনদের কাছে সিরিজ হারে মিসবাহ উল হকের শিষ্যরা। সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়াও। পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে অজিরা হারে ৩-২ ব্যবধানে। বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে তাই সিরিজ বিবেচনায় অপরাজিত থেকে গ্রীষ্ম শেষ করলো ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

ঠিক উল্টো রথে সময় কাটলো বাংলাদেশের। উইন্ডিজকে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে হারালেও টেস্টে ধবলধোলাই হয় টাইগাররা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে অন্তত একটা জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশ ছেড়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু বৃহস্পতিবার ‍তিন ম্যাচের শেষ টি-২০ ম্যাচে অকল্যান্ডে লিটনরা হেরেছেন ৬৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। কার্টেল ওভারে প্রথমে ব্যাট করে কিউইরা তোলে ১৪১ রান। জবাব দিতে নেমে ১০ ওভারের ম্যাচেও অলআউট হয় সফরকারী বাংলাদেশ। তুলতে পারে ৯.৩ ওভারে ৭৬ রান।

ইডেন পার্কে ডাবল হেডারের (নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া নারী দলের টি-২০) প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়। শঙ্কার মেঘ জমেছিল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচেও। তবে কার্টেল ওভারে দুই ঘণ্টা পরে ম্যাচ শুরু হলেও স্বস্তি পাননি টাইগার বোলাররা। ঝড়ো ব্যাটিং করে কিউইরা তুলে ফেলে বড় রান। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ১৯ বলে পাঁচ ছক্কা ও এক চারে খেলেন ৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ওপেনিং জুটিতে ফিন অ্যালেনের সংগে গাপটিল যোগ করেন ৩৪ বলে ৮৫ রান। নিজের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে এসে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তরুণ ওপেনার অ্যালেন। তিনি শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে করেন ৭১ রান। দশ চারের সঙ্গে দেখান তিনটি ছক্কার শট।

এছাড়া গ্লেন ফিলিপস ও ডারলি মিশেল যথাক্রমে যোগ করেন ১৪ ও ১১ রান। জবাব দিতে নেমে লেগ স্পিনার টডি অ্যাস্টল ও পেসার টিম সাউদির তোপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ১০ রান করে ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার। এরপর নেতৃত্বের অভিষেকে গোল্ডেন ডাক মারেন লিটন দাস। দল তখন ভরসা খুঁজছে ওপেনার নাঈম শেখ ও শেষ ম্যাচে দলে জায়গা পাওয়া নাজমুল শান্তর ব্যাটে। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয়ে ফেরেন। দলের পক্ষে নাঈম করেন সর্বোচ্চ ১৯ রান। বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮ রান। এরপর আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন ফিরলে লজ্জার হারের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে মাঠে নেমে মোসাদ্দেক করেন ১৩ রান। আর টি-২০ ফিনিশার খ্যাত আফিফ হোসেন করেন ৮ রান। দশের ঘরে রান নিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের আর কেউ। নিউজিল্যান্ডের হয়ে এই ম্যাচে টড অ্যাস্টল ২ ওভারে ১৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক টিম সাউদি ২ ওভারে ১৫ রান খরচায় তুলে নেন ৩ উইকেট।

বাংলাদেশের বোলারই ছিলেন খরুচে। দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও শেখ মাহেদি রান আটকাতে পারেননি। বরং বোলিং ওপেনিং করা বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম ২ ওভারে খরচ করেন ২৯ রান। অন্য স্পিনার মাহেদি ২ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন এক উইকেট। সুবিধা করতে পারেননি দলে ঢোকা পেসার রুবেল হোসেনও। তিনি ওভার প্রতি ১৬.৫০ গড়ে দেন ৩৩ রান। তাসকিনের দুই ওভার থেকে কিউইরা ১ উইকেট দিয়ে তুলে নেন ২৪ রান। তাদের তুলনায় ভালো বোলিং করেছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-২০ খেলতে নামা বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তিনি ২ ওভারে ২০ রান দেন। তুলে নেন একটি উইকেট।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার