চলছে বর্ষাকাল। আকাশে সারাদিনই থাকে মেঘের ঘনঘটা। সেই সাথে যখন তখন ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে প্রকৃতি খানিকটা স্তব্ধ হয়ে থাকলেও কাজ থেমে থাকে না মানুষের। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তাই বেরিয়ে পড়তে হয় কাজের ক্ষেত্রে। কেউ কেউ এ ক্ষেত্রে ছাতার আশ্রয় নিলেও অনেকেরই ভরসা রেইনকোটে। বর্ষায় বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে সারা বিশ্বেই এই পোশাকটি বেশ জনপ্রিয়। তবে রেইনকোট ব্যবহারে সাবধান না হলে নানা রকম শারীরিক জটিলতায় পড়তে হয় এই বিষয়টি হয়তো অনেকেরই জানা নেই। বিশেষ করে রেইনকোট গায়ে দিলে এক ধরনের ভ্যাপসা গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা হয় অনেকের। এর থেকে সৃষ্টি হয় ত্বকের র‍্যাশ। তবে এসব ঝামেলা থেকে মুক্তিও মেলে একটু কৌশল জানা থাকলে। চলুন জেনে আসা যাক বর্ষায় রেইনকোট পরিধান করলে কী ধরনের অসুখে ভুগতে পারেন।

রিঙ ওয়ার্ম :

এটি এক ধরনের ছত্রাক। মূলত ১৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ করে বেশি। তবে বড়রাও যে এর হাত থেকে মুক্ত তাও কিন্তু না। সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি মানুষ এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ত্বকের এই সংক্রমণ শরীরের নানা জায়গায় হতে পারে। এটি হয় মূলত ভ্যাপসা গরমে ভিজে জামা কাপড় পরে থাকলে। এই অবস্থাটা রেইনকোট পরলেই বেশি তৈরি হয়। তাই রেইনকোট পরার আগেই এই ব্যাপারে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অপরিচ্ছনতা থেকেও এই ছত্রাকটি বংশ বিস্তার করতে পারে। তাই বৃষ্টির দিনগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

টিনিয়া পেডিস :

রেইনকোট পরার ফলে শরীরে তাপমাত্রার হেরফের হয়। আর পায়ে যদি মোজা পরা থাকে তবে তা বেশ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পায়ের পাতার ত্বকে এই কারণে র‍্যাশের সৃষ্টি হয় এবং এই র‍্যাশ থেকে জন্ম হয় টিনিয়া পেডিস বা অ্যাথলেটস ফুট নামক এক ছত্রাকের। এই রোগটি হলে পায়ের পাতায় মারাত্মক ধরনের ঘা হতে পারে। রেইনকোট ব্যবহারের সময় পায়ের মোজার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সিনথেটিক কাপড়ের তৈরি মোজা পরা থেকে বিরত থাকুন। টিনিয়া পেডিসে আক্রান্ত হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

জক ইচ :

রেইনকোট ব্যবহারের ফলে কুঁচকি, ঊরু এবং নিতম্বে এক ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। এই ধরনের সংক্রমণকে বলা হয় টিনিয়া ক্রুরিস বা জক ইচ। এই রোগটি শরীরে বাসা বাঁধলে বেশ ঝামেলাতেই পড়তে হয় হাঁটা চলে করতে। জক ইচ আক্রমণ করলে প্রচণ্ড চুলকানির ফলে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এটি রেইনকোট পরার ফলে যে ঘামের সৃষ্টি হয় তার থেকে হতে পারে। তাই রেইনকোট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে ঘাম যেন জমে শুকিয়ে যেতে না পারে।

যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত :

অনেকেই আছেন যারা বাজারের কিছু সস্তা ক্রিম ব্যবহার করে এই ধরনের সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। এমনকি ত্বকে পচনও ধরতে পারে কিছু কিছু ক্রিম ব্যবহারে। এই ধরনের ছত্রাক আক্রমণ করলে ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

বর্ষায় ত্বকের সংক্রমণ ঘটতে দেখলে রেইনকোট ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে। এর পরিবর্তে ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যদি ছাতা ব্যবহার করতে সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রে রেইনকোট ত্যাগ করার সাথে সাথেই শরীর ভালোকরে মুছে নিন। সুযোগ থাকলে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন।

ভেজা রেইনকোট ব্যাগে রাখার আগে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। কেননা এর ফলে ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ থাকে বেশি। ভেজা মোজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটাতে পারেন। প্রয়োজনে একাধিক মোজা রাখতে পারেন ব্যাগে।