শোকের মাস আগস্ট স্মরণে সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মীদের পবিত্র ঈদুল আযহার উপহার বিতরণ করেছে রিয়াদে আওয়ামী পরিষদ (আওয়ামী লীগ)-এর নেতৃত্বে আওয়ামী পরিবারের ৭ সংগঠন।

৯ আগস্ট বিকেলে সেফহোমে প্রায় ৩০০ গৃহকর্মীর হাতে ঈদের জামা-কাপড় তুলে দেন রিয়াদ আওয়ামী পরিষদ (আওয়ামী লীগ)-এর সভাপতি এমআর মাহবুবের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, আওয়ামী যুবলীগ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল শাখা, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের নেতৃবৃন্দ।

গৃহকর্মীদের মাঝে ঈদ-উপহার বিতরণের আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন ৭ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সপরিবারে জাতির জনকের নির্মম হত্যার এই শোকের মাসে অসহায়দের সাহায্য-সহযোগিতা করার চেয়ে ভালো কাজ আর কী হতে পারে। দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মীরা যাতে ঈদের দিনে অন্তত একটু আনন্দ পায় সেজন্য আমাদের এই চেষ্টা। বক্তারা আরো বলেন, প্রবাসে এসে গৃহকর্মীদের সেফহোমে দেখে আমরা মর্মাহত। তাদের দুঃসময়ে অনেকটা সমবেদনা জানাতেই এখানে আসা। আমরা আশা করবো দূতাবাস যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব গৃহকর্মীদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

আওয়ামী পরিষদ (আওয়ামী লীগ)-এর সভাপতি এমআর মাহবুব এসময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, যে কোনো কারণেই হোক গৃহকর্মীরা আজ বিদেশের সেফহোমে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা আমাদের দেশের নাগরিক। এইসব মানুষের দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়ানো নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। এদের দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাস যথেষ্ট চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি দূতাবাসের ঐকান্তিক চেষ্টায় সৌদি আরবের আইন মোতাবেক ইতিমধ্যে সেফহোম থেকে অনেক গৃহকর্মীদের দেশে পাঠানো হয়েছে। তবে, এসব কর্মীরা যাতে বেশি রকম বিপদের মধ্যে না পরে তার জন্য নিয়মতান্ত্রিক শর্তকতার প্রয়োজন রয়েছে। এমআর মাহবুব গৃহকর্মীদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য প্রবাসী বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

ঈদ উপহার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ডা. শাহআলম, রিয়াদ কেন্দ্রিয় আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এমএ জলিল রাজা, রিয়াদ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষক লীগ সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল শাখার আহবায়ক গিয়াসউদ্দিন মামুন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শেখ জামাল ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সভাপতি মো. আলমগীর।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী পরিষদের সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ সংগঠনের সকল সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ডা. শাহআলম সেফহোমে থেকে গৃহকর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতের সমসাময়ীক পদক্ষেপের ফলে গৃহকর্মীদের সেফহোমে অবস্থান এবং তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এরফলে, রিয়াদের রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারছে। তিনি বলেন, রিয়াদে আওয়ামী পরিবারে আমাদের জোটভূক্ত ৭ সংগঠন দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মীদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য সব সময় পাশে থাকবে।

গৃহকর্মীদের জন্য ঈদ-উপহার বিতরণী অনুষ্ঠানে দূতাবাসের শ্রম-উইং থেকে বেশ কয়েক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের বাসা-বাড়িতে বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী পাঠানো শুরু হলে অন্তত ৬ মাসের মধ্যে নানা সমস্যায় দূতাবাসে আশ্রয় নিতে থাকে তারা। এর প্রেক্ষিতে গৃহকর্মীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের খরচে বাড়ি ভাঢ়া করে সেফহোমে থাকার ব্যবস্থা করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৮ থেকে ১১ জন গৃহকর্মী সেফহোমে আশ্রয় নিয়ে থাকে। এদের অনেককে ইতিমধ্যে সৌদি আইন-কানুনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া করে দেশে পাঠানো হচ্ছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রক্রিয়াটি আরো দ্রুততর করার জন্য সৌদি শ্রমমন্ত্রণালয় স্থানীয় রিক্রুইটমেন্ট থেকে পাঠানো ভিসার মাধ্যমে যেসব গৃহকর্মীরা এসে সমস্যার পড়েছেন তাদের ব্যাপারে সুরাহা করার জন্য ওইসব প্রতিষ্ঠনগুলির উপর বাধ্যতামূলক আইন জারি করেছে। গৃহকর্মীদের দেশে পাঠানোর ব্যাপারে গাফিলতি দেখামাত্র এসব প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে বড় ধরণের জরিমানা আদায় করা হবে।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সৌদি সরকারের বর্তমান পদক্ষেপের কারণে গৃহকর্মীরা একদিকে যেমন দ্রুত দেশে যেতে পারবে তেমনি সেফহোমে আগের মতো ভীড় বাড়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।