রাজশাহীতে ভুয়া সনদে অধ্যক্ষ পদে ১২ বছর

Img

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট (বি.এম) কলেজে ভুয়া সনদে ১২বছর ধরে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কম্পিটার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুল হক এর বিরুদ্ধে।

আলীপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট (বি.এম) কলেজে ২০০১ সালে আলীপুর মহাবিদ্যালয় নামে স্থাপিত হয়। পরে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ শাহআলম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে আলীপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট (বি.এম) কলেজ নাম করন করা হয়। অনিয়মের কারেন অধ্যক্ষ এর পদ থেকে শাহআলম পাটোয়ারিকে বরখাস্ত করা হলে প্রায় নয় মাস প্রতিষ্ঠিনের প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর দায়িত্ব পালন করেন নূরনাহার খাতুন। পরে ২০০৮ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর দায়িত্ব পান মোঃ আজিজুল হক।

প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে এমপিওভূক্ত হলে তিনিও এমপিও ভূক্ত হন এবং পরে ২০০৮ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর দায়িত্ব পান মোঃ আজিজুল হক । দায়িত্বে পালনকালে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট বিভিন্ন অনিময় দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিলো, সে সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো। পরে তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন দেয় যে মোঃ আজিজুল হক এর কম্পিটার অপারেশন এর সনদটি যাচাই করতে গিয়ে তদন্ত কমিটি বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে এই মর্মে একটি প্রতিবেদন ও দেয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুল হক। ৯ এপ্রিল ২০০৪ সালে স্বারক নং- আটবিমই/ ক/৪৭/০৪ মোতাবেক নিয়োগ পান। এবং ১৩/৪/২০০৪ সালে প্রভাষক কম্পিটার অপারেশন পদে যোগদান করেন। পরে ২০০৮ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর দায়িত্ব পান মোঃ আজিজুল হক।

সনদ যাচাইয়ে কম্পিটার শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক পদে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুল হকের নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে জাতীয় কম্পিটার প্রশিক্ষণ ও গবেষনা একাডেমী যাচাই প্রতিবেদনে সনদের রোল নং.১৫৪০ ও রেজিঃনম্বর. ১৫০৮৭ সনদটি ভূয়া বলে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

নাম প্রকাশ করা শর্তে এক শিক্ষক বলেন, এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম রয়েছে,তার অনিয়মে কেউ প্রতিবাদ করলে সেই শিক্ষককে চাকুরিচূত্যু করার হুমকি দেয়। ফলে আমারা সকল শিক্ষক সহ পুরো প্রতিষ্ঠানটি জিম্মি হয়ে পড়ছে এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কিছু কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে,অামার সকল সনদপত্র ঠিক আছে এর আগেও এই কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিলো।

জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগে ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংক্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

- সূত্র: রাজশাহীতে ভুয়া সনদে অধ্যক্ষ পদে ১২ বছর
প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার