পবিত্র রমজান অবতীর্ণ হয় পবিত্র কোরআন। যে কোরআনের আলোয় রাসুল সা. একটি বর্বর জাতিকে পৃথিবীর একটি সুসভ্য জাতিতে রূপান্তরিত করলেন মাত্র ২৩ বছরের সাধনায়। এই কোরআনের ক্ষমতা অনেক। যেকোনো কঠিন হৃদয় অনায়াসে কোমল থেকে কোমল হয়ে যায় কোরআনের সংস্পর্শে। কোরআনের তেলাওয়াত অশান্ত হৃদয়ে প্রশান্তি নেমে আসে। এর তেলাওয়াত ঈমানের নূর বাড়িয়ে দেয়। 

রাসুল সা. ইরশাদ করেন, সর্বোত্তম জিকির হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত। তিনি বলেন, কেউ আল কোরআনের একটি অক্ষর উচ্চারণ করলে দশটি নেকি দান করা হয়। আমি বলছি না আলিফ লাম মিম মিলে একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর লাম একটি অক্ষর মিম একটি অক্ষর। সুতরাং কেউ যদি শুধু আলিফ লাম মিম তেলাওয়াত করে সে ৩০টি সাওয়াব লাভ করবে। 

রাসুল সা. ইরশাদ করেন, রমজান মাসে কেউ একটি নফল ইবাদাত করলে ৭০টি নফল ইবাদতের সওয়াব লাভ করবে। সুতরাং রমজান মাসে কেউ কোরআনের একটি হরফ তেলাওয়াত করলে সাতশ সওয়াব লাভ করবে। এজন্য রমজান মাসে রুটিন করে কোরআনের তিলাওয়াত করা চাই। যারা দ্রুত তিলাওয়াত করতে পারেন না, দিনের কয়েকটি অংশে কমপক্ষে একপারা করে তেলাওয়াত করুন। যারা দ্রুত তেলাওয়াত করতে সক্ষম তারা আরও বেশি খতমে কোরআনের চেষ্টা করুন। অর্থ বুঝে কোরআন তেলাওয়াতের চেষ্টা করা উচিত শিক্ষিতদের। বাংলা ইংরেজি অনুবাদসহ কোরআনের অনেক এডিশন লাইব্রেরিতে পাওয়া যায়। মোবাইলে অনেক অ্যাপসও রয়েছে কোরআনের। 

যারা অন্তত বাংলা পড়তে জানেন, কোরআনের কিছু অংশ হলেও অনুবাদ জানার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে আমরা নামাজে সচরাচর যে সুরাগুলো তেলাওয়াত করে থাকি এসবের অনুবাদ জানা থাকলে নামাজে আমাদের মনোনিবেশ আরও বেড়ে যাবে। এক একটি রমজানে এমন একেকটি ভালো উদ্যোগ দ্বারা আমরা নিজের জীবনটাকে সাজাতে পারি। এভাবে কোরআনের সাথে যদি আমাদের আত্মার বন্ধন ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে তাহলে দুনিয়ার জীবন আমাদের সুন্দর হয়ে উঠবে। পরকালে এই কোরআন আমাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। 

এছাড়া এ রমজান মাসে বেশি বেশি নফল নামাজ আমরা আদায় করবো। সাহরির জন্য ঘুম থেকে যখন জেগে উঠি, শুরুতেই অজু করে অন্তত চার রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করে নিই। এছাড়াও ইশরাক, চাশত, আওয়াবিনের নামাজগুলো আদায় করতে পারি। মসজিদে যখনই প্রবেশ করি, প্রথমেই না বসে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল ওজু আদায় করে নিই। প্রতি ওয়াক্তের নামাজের আগে ওপরে যেসব সুন্নত ও নফল নামাজ রয়েছে তা যত্নের সাথে আদায় করতে পারি। 

রাসুল সা. ইরশাদ করেন, তোমরা আঙ্গুলে গুনে গুনে তাসবিহ পাঠ করো, কারণ কেয়ামতের দিন এই আঙ্গুলের ঘিরাগুলো তোমাদের পক্ষে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দেবে। রাসুল সা. ইরশাদ করেন, যারা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে তার জিহ্বাকে তাজা রাখবে, কেয়ামতের দিন হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এজন্য এই পবিত্র মাসের আমরা সম্মান করি। একটি সূবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাই। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতের মাধ্যমে আমরা উদযাপন করি।

লেখক: মুহাদ্দিস, মারকাযুল উলুম আশ্ শারইয়্যাহ সাভার, ঢাকা