রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

বিষয়: পবিত্র মাহে রমজান ২০২১
Img

আরবি মাসসমূহের নবম মাস হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রোজা হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। রোজা শব্দটি ফারসি। এর আরবি পরিভাষা হচ্ছে সাওম, বহুবচনে বলা হয় সিয়াম। সাওম অর্থ বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা। পরিভাষায় সাওম হলো আল্লাহর সন্তুটি কামনায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার থেকে বিরত থাকা। রোজা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য ফরজ একটি ইবাদত।

বছরে একটি মাস রোজা রাখা হয়। আর সেই মাস হলো রমজান। রমজান মুসলিমদের মনে শান্তি ও খুশীর বার্তা নিয়ে আগমন ঘটায়। এই রমজান মাস আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুলের অন্যতম একটি সময়। এসময়ে মুসলিমরা ইবাদতে মশগুল থাকে এবং বেশি বেশি আমল করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তায়ালা এই মাসে আমল করার অনূকূল অবস্থা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। শয়তান মানুষকে আমল থেকে বিচ্যুত করে সে শয়তানকে এ মাসে বেঁধে রাখা হয়।

রমজানের ৩০টি রোজাকে রহমত, বরকত, মাগফিরাত এই ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

রোজা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ''তোমাদের উপর সাওম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে। যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার (সূরা আল- বাকারা, আয়াত ১৮৩)

রোজা মানুষকে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ এবং সকল ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন- সাওম (রোজা) ঢালস্বরূপ। (বুখারী ও মুসলিম)।

রোজাদারের মর্যাদা অনেক ও আল্লাহ তায়ালা রোজাদার ব্যাক্তিকে অপরিসীম ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন।  মুসল্লিয়ানে কেরাম! রাসূল (সাঃ) বলেন তোমাদের এই উম্মতকে রমজান উপলক্ষে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা পূর্বের কোন উম্মতকে দান করা হয়নি। এটা শুধু তোমাদের কেই দান করা হয়েছে।

এই পাঁচটি বিষয় হচ্ছে:

১. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়ে বেশি ভালো। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে রোযাদারের প্রতি আল্লাহ এমন খুশি হন যে, তার কোনো কিছুই তার খারাপ লাগে না। এমনকি তার মুখের গন্ধটাও ভালো লাগে। রোযাদারের সবকিছুই আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়।

২. রোজাদারের জন্য সমস্ত মাখলূক সমস্ত প্রাণী এমনকি পানির মাছ পর্যন্ত দু'আ করতে থাকে। রোজার দ্বারা সমস্ত মাখলূকের দু'আ অর্জন করা হয়।

৩. রোজাদারের উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক প্রতিদিন জান্নাতকে নতুন নতুন রুপে সাজাতে থাকেন। এখানে পরিস্কার বোঝা যায়- যদি এই রোজাদারদের জান্নাতে পৌঁছানো না হবে, তাহলে তাদের জন্য জান্নাতকে সাজানো অর্থহীন হয়ে যায়। তাদের জন্যই যখন সাজানো হচ্ছে তখন অবশ্যই তাদেরকে সেখানে পৌঁছানো হবে। তাহলে রোযা জান্নাতে পৌঁছানোর একটি বড় ওছীলা হয়ে দাঁড়াবে।

৪. এই রমজানে বড় বড় শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয় তাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়, যাতে এই রমজানে মানুষ ওয়াছওয়াছা মুক্ত থেকে তাদের জীবনকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারে।

৫. রমজান উপলক্ষে রোজাদারদের ক্ষমা করা হয়, বিশেষভাবে শেষ দিনে তাদেরকে  ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এই হাদীছ থেকে বোঝা গেল- আমরা যদি রমজানের রোজা সহীহ্ভাবে আদায় করি, রমজানের হক পুরোপুরি আদায় করতে পারি, তাহলে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে, সমস্ত মাখলূকের দু'আ পাওয়া যাবে, এই রমজানের ওহীলায় জান্নাত পাওয়া যাবে, এই রমজানের ওছীলায় জীবনকে গঠন করা যাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ক্ষমা পাওয়া যাবে। 

এতবড় সুযোগ যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে একথা শুনতে হয় যে, ''হত ভাগারা! এতবড় সুযোগ তোমাদের দিয়েছিলাম, যে সুযোগ অন্য কোন উম্মতকে দেইনি অথচ তোমরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারনি, তাহলে আমাদের জন্য সেটা হবে বড়ই আফসূসের বিষয়।

রোজার গুরুত্ব এবং সুসংবাদ:

ধর্মীয় দিক থেকে সাওম বা রোজার গুরুত্ব অনেক। এ সময়ের আমলকৃত সকল সৎ কাজের প্রতিদান আল্লাহ দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন- ''সাওম আমার জন্য আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো'' ( বুখারী)।

আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাওম পালন করা হয় সেকারণে আল্লাহ তায়ালা রোজাদারের পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। 

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)

বলেছেন ''যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সাওয়াবের আশায় রমজান মাসে রোজা রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন'' (বুখারী)।

রমজানের রোজা ফরজকৃতরা যদি তা পালনে অনীহা দেখায় বা  পালন না করে সে বিষয়েও কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। 

রাসূল (সাঃ) বলেন ''প্রকৃত পক্ষে অসুস্থ নয় শরীয়তে তাকে রোজা ছাড়ার অনুমতি দেয়নি- এ অবস্থায় কেউ যদি রমজানের রোজা ছাড়ে, তাহলে সারা জীবন রোজা রাখলেও সেই ক্ষতি পূরণ হবে না। এ হাদীছে অনেক কড়া কথা বলা হয়েছে- একটা রোজা কাজা করলে সারা-জীবন রোজা রাখলেও সেই ক্ষতি পূরণ হবে না। তাই বলা হয়েছে রোজা রাখার হিম্মত করতে হবে, হিম্মত করলে রোযা রাখা সহজ, না করলে কঠিন। রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ সালাত সঠিকভাবে আদায় করতে হবে এবং সেটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে আমলের জন্য কবুল করুক আমিন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার