যে কারণে দেশের সেরা ‘কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার‘

Img

যে কারণে দেশের সেরা ‘কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার‘

ব্রিটিশ শাসনামলে এতদাঞ্চলে প্রথম কারাগার হিসেবে কুমিল্লায় ৬৩ একর ১২ শতাংশ ভূমিতে ১৭৯২ সালে জেলা কারাগারটি স্থাপন করা হয়। কারাগারের মূল বেষ্টনীর পরিমান ৯৬ বিঘা। ১ হাজার ৮শ’ ৩৮ জন বন্দী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কারাগারটিকে ১৯৬২ সালে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। ২০০৬ সালে দুর্নীতিমুক্ত সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বন্দী কল্যাণে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় কারাগারটিকে দেশের অন্য কারাগারের মডেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমন একটা সুন্দর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে গত ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর জাহানারা বেগম সিনিয়র জেল সুপার ও গত ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর ফোরকান ওয়াহিদ জেলার হিসেবে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের যোগদান করেন । সিনিয়র জেলসুপার ও জেলার পূর্বের ধারাবাহিকতায় কারাগারটিকে দুর্নীতিমুক্ত এবং বন্দীদের চারিত্রিক সংশোধনাগার হিসেবে পরিণত করার লক্ষ্যে পূর্বের কর্মকান্ডকে আরো ত্বরান্বিত এবং নব উদ্যমে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ হাজার ৬শ’ ৮০ জন বন্দীর মধ্যে ২ হাজার ৫শ’ ৭৫ জন পুরুষ ও ১শ’ ০৫ জন মহিলা বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে ৫শ’ ৪৭ জন পুরুষ ও ২৩ জন মহিলা কয়েদী। ২ হাজার ২৮জন পুরুষ ও ৮২ জন মহিলা হাজতী অবস্থান করছে। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দী রয়েছে ৬১ জন পুরুষ ও ৭ জন মহিলা। মায়ের সাথে শিশু বন্দী রয়েছে ৫ ছেলে ও ৫ মেয়ে। আরপি বন্দি রয়েছে ২জন। ৭৫ শয্যা বিশিষ্ট কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭০ জন বন্দী।

‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’কারা বিভাগের এই ভিশনকে সামনে রেখে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বর্তমান প্রশাসন প্রশিক্ষন-শৃঙ্খলা- মানবতা এই মুল মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দূর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে কারাগারকে সংশোধনাগার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে দৃঢ় প্রত্যায়ী।

কর্মকর্তা কর্মচারী এবং বন্দীদের দরবারঃ
প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দরবার প্রথা চালু করা হয়েছে। যেখানে বন্দীদের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল আচরণ করার জন্যে মোটিভেশন করা হয়। এভাবে প্রতিমাসে কারাঅভ্যন্তরে পৃথক ৩টি স্থানে বন্দীদের নিয়ে দরবার প্রথা চালু করা হয়েছে। ওইসব স্থানে বন্দীদের অভিযোগ শুনে সমাধান করা হয় এবং তাদের সংশোধনের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

কারাগারের ভিতর ও বাইরে ক্যান্টিনঃ
কারাগারের ভিতরে ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কারারক্ষী দিয়ে ক্যান্টিন পরিচালনা করছে। বন্দীদের ব্যক্তিগত তহবিল (পি.সি)’র মাধ্যমে হালিম, চমুছা, সিংগারা, খাজা, আলুর চপ, পরোটা, ডিম, চা,জিলাপী, আলুর ভর্তা ইত্যাদি খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বৈধ দ্রব্যাদি বাজার মূল্যের চেয়ে কমে বিক্রি করে আসছে। কারাগারের বাইরের ক্যান্টিন হতে বন্দীদের আত্মীয়-স্বজন ন্যায্য মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে অতি সহজে কারাঅভ্যন্তরে বন্দীদের নিকট সরবরাহ করতে পারছে। ফলে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রব্যের গুণগত মান বজায় রেখে অবৈধ দ্রব্য কারাঅভ্যন্তরে প্রবেশের ঝামেলা হতে মুক্ত থাকতে পারছে।

ভর্তুকিঃ 
কারা অধিদপ্তর হতে ঈদ উপলক্ষে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারির নিকট স্বল্প মূল্যের ভর্তুকি ছাড় দিয়ে প্রত্যহ নিত্যপ্রয়োজনীয় উন্নতমানের দ্রব্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সকলে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছে এবং তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈদে বন্দীদের নতুন কাপড় বিতরণঃ 
ঈদে বন্দীদের মাঝে নতুন কাপড় বিতরণ ও উন্নত মানের খাবার দেওয়া হয়-পুরুষ বন্দীদের কাপড় দেওয়া হয়-পাঞ্জাবী,লঙ্গী।মহিলা বন্দীদের কাপড় দেওয়া হয়-শাড়ী,থ্রী-পিচ ও কর্সমেট্রিক শুধু তা-নয় মহিলা বন্দীদের শিশু সন্তানদেরকে নতুন জামাকাপড় ও বিদেশী চকলেট দিয়ে থাকেন।ঈদের দিনে সকালে বন্দীদের খাবার দেওয়া হয়-শ্যামাই,প্যায়েশ,মিষ্টি,মুড়ি। দুপুরে খাবার দেওয়া হয়-আলুর দম,মাছ,ভাত ও রাতের খাবার দেওযা হয়-খাসী,গরুর মাংস,সালাত,ডিম,পোলাও ভাত।এই অতিরিক্ত টাকা কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন তহবিল থেকে নিজ অর্থ্যয়নে খরচ করে থাকেন।

ট্যানওয়ে সিষ্টেম চালুঃ 
ট্যানওয়ে সিষ্টেম চালুর ফলে বন্দীদের দেখা-সাক্ষাত, জামিন-খালাস ও খাবার প্রদানের সময় ডেকে আনা সহজ হয়েছে।

সেন্ট্রি বক্সঃ 
কারাঅভ্যন্তরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেন্ট্রি বক্স তৈরির ফলে রোদ-বৃষ্টিতে কারারক্ষীদের কর্তব্য পালনে কষ্ট দূরীভূত হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগেও পেরিমিটার ওয়ালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

সিসি টিভিঃ 
সিসি টিভি ব্যবস্থা চালুর ফলে কারা ফটক দিয়ে এবং সাক্ষাত কক্ষ দিয়ে কেউ কোন অবৈধ দ্রব্যাদি কারাঅভ্যন্তরে প্রবেশ করাচ্ছে কি-না ও বিভিন্ন পোষ্টিং এ ডিউটি সঠিক ভাবে হচ্ছে কি-না তা’ সিনিয়র জেল সুপার এবং কারাগারের জেলার অফিস কক্ষে বসে মনিটরিং করতে পারছেন।

মহিলা বন্দীদের প্রশিক্ষণঃ 
মহিলা বন্দীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেলাই, এমব্রয়ডারী, দর্জি, বিউটি পার্লার,কারচুপি শিক্ষার জি,আই,জেড ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং:
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সিষ্টেম চালুর ফলে দাপ্তরিক সকল কাজ দ্রুত এবং সংরক্ষণ রাখা সহজ হয়েছে। নির্ভুল ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে ইন্টারনেট সংযোগ সহ ওয়েবসাইট, ডাটাবেইজের মাধ্যমে বন্দীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

ডিজিটাল ক্যামেরায় বন্দীদের ফটো উত্তোলন ও সংরক্ষণঃ 
ডিজিটাল ক্যামেরায় বন্দীদের ফটো উত্তোলন ও সংরক্ষণের ফলে বন্দীদের ভুল মুক্তি এড়ানোসহ সহজেই বন্দীদের সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রেষণামূলক প্রশিক্ষণঃ 
প্রেষণামূলক প্রশিক্ষণের ফলে বন্দীরা কারাগার থেকে টিভি, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশন, রেডিও মেরামতসহ দর্জি, সেলাই, এমব্রয়ডারী, মোড়া, বাঁশ, বেতের কাজ, পাপোষ, কার্পেট,এবং বিভিন্ন ধরনের কাপড় তৈরি ও লন্ড্রি ইত্যাদি প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে মুক্তির পর বন্দীরা ওইসব কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে শুধু তা-নয় শাক,সবজি চাষ করে অধিক ডাইট প্রদানের মাধ্যমে সরকারের অনেক অর্থ্য ব্যায় হতে হ্রাস পাচ্ছে। বন্দীরা ওইসব পেশায় নিয়জিত থাকলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাওয়াসহ তাদের জীবনমানও আলোকিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্দীদের চরিত্র সংশোধনমূলক কর্মসূচীঃ বন্দীদের চরিত্র সংশোধনের জন্য নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি গণশিক্ষা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ ১৮ হতে ২২ বছর বয়স পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কারা কর্মচারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমঃ কারা কর্মচারীদের প্যাকেজ প্রোগ্রামের আওতায় সকালে পিটি,প্যারেড সহ বছরে ৪ বার চাইনিজ রাইফেল দিয়ে ফায়ার করিয়ে বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

বন্দী ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লন্ড্রী সুবিধাঃ 
বন্দীদের জমাকৃত অর্থের বিনিময়ে (পিসি) ব্যক্তিগত কাপড় ধৌত ও ইস্ত্রি করার জন্য কারাঅভ্যন্তরে একটি লন্ড্রি স্থাপন করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও কারা এলাকায় লন্ড্রির ব্যবস্থা রয়েছে।

সাঁতারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতাঃ 
প্রতি বছর আন্তঃ বিভাগীয় বিভিন্ন খেলাধুলা সহ সাঁতার, সাংস্কৃতিক এবং আজান ও কেরাত প্রতিযোগিতা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে হতে অংশগ্রহন করে আসছে।

বন্দীদের রুটির পরিবর্তে দু’বেলা ভাত সরবরাহঃ 
খাদ্যের গুণগতমান বজায় রেখে বন্দীদের সকালের নাস্তা হিসাবে রুটি, কখনওবা ভুনা খিচুরী এবং ২ বেলা ভাতের সঙ্গে সবজী ও প্রতিদিন মাছ বা মাংস এবং ডাল প্রাপ্যতা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ী কার্যপ্রণালী নির্ধারণঃ 
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ী কার্যপ্রণালী নির্ধারণের ফলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সহজ হচ্ছে এবং প্রশাসনে গতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সিটিজেন চার্টারঃ 
২৪ প্রকার সেবার বর্ণনা দিয়ে সিটিজেন চার্টার তৈরি করে কারাগারের সামনে টানিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে বন্দীদের আত্মীয়-স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের তথ্য সরবরাহ করা সহজ হয়েছে।

প্রতিদিন বন্দী ওয়ার্ড তল্লাশীঃ 
কারারক্ষী টিম করে প্রতিদিন বন্দী ওয়ার্ড গুলো তল্লাশী করা হয় অবৈধ দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে না রাখতে পারে।সাজা প্রাপ্ত পুরানো বন্দীদের একটি দল বিশেষ গয়েন্দান প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদেরকে নিদেষ দেয়া হয়,মাদক আসক্ত বন্দীদের নজরদারী করার জন্য কোন অবৈধ কাজ না করতে পারে।

কারাঅভ্যন্তরে বন্দীদের বিচারালয়ঃ কারাঅভ্যন্তরে বন্দীদের বিচারালয় কক্ষ রয়েছে- বন্দীরা কোন অপরাধ করলে তাদেরকে রির্পোট করে সর্বপ্রধান রক্ষী সকালে বিচারালয়ে হাজির করা হয়। বিচারক হিসাবে থাকেন সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার- অপরাধ করা বন্দীদের রির্পোট অনুযায় সাক্ষী প্রমানের মাধ্যমে তাদেরকে জেলকোর্ট ধারা বিধি অনুযায় বিচার করেন। গুরু অপরাধ করা বন্দীদের শাস্তী হচ্ছে বিভিন্ন রকম – কনডম সেল,এক পায়ে বেরী,দু’পায়ে ডান্ডা বেরী ,এক জেলা কারাগার থেকে অনন্য জেলা কারাগারে বদলী করে স্থান্তর করা।এই শাস্তী গুলো নিদিষ্ট কিছু সময় নিধারণ করে থাকেন।এই ভাবে গুরু অপরাধী বন্দীরা অপরাধ বুজতে পেরে তাদের চারিত্রিক সংশোধন পরিবর্তন আসে।

কারা সপ্তাহ উদযাপনঃ 
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ সমগ্র কারা বিভাগে প্রতি বছর কারা সপ্তাহ উপযাপিত হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের চিত্ত বিনোদনসহ দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিরাপত্তা ইউনিট গঠন ও কারাগারের সার্বিক অবস্থা মনিটরিং:
কারা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত কারা গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কোর্স সম্পন্ন করা কারারক্ষী (সি.আই.ডি) প্রতিদিন কারাগারের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গোপনীয় প্রতিবেদন প্রেরণ করায় প্রশাসনের জবাবদিহীতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর মনোভাব পোষন করা হচ্ছে।

এলার্ম স্কীমঃ 
মাসে একবার এলার্ম স্কীম অনুশীলনের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে উদ্ভুত যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কৌশল বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়াকিটকি দিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং: আধুনিক ব্যবস্থায় ওয়াকিটকি দিয়ে সার্বক্ষণিক কারাগারের নিরাপত্তা মনিটরিং করা সহজ হয়েছে।

মটো স্থাপন (কারাগারের ভিশন): 
মটো স্থাপনের ফলে বন্দীদের প্রতি কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারাগারের ভিশন হচ্ছে ‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপনঃ 
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপনের ফলে কারা এলাকায় আগত দর্শনার্থী এবং নবাগত ও কোর্ট ফেরত বন্দীদের দেহ তল্লাশীপূর্বক কারাগারের নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ অবৈধ দ্রব্যাদি কারাগারে প্রবেশ প্রতিহত করা সহজ হচ্ছে।

পিসি’তে টাকা জমাদান সহজীকরণঃ দরখাস্তের মাধ্যমে ও ডাকযোগে বন্দীর ব্যক্তিগত তহবিলে বা পিসিতে টাকা জমা দিতে পারছে।

অনুসন্ধান কেন্দ্র স্থাপনঃ 
রিজার্ভ গার্ড রুমে অনুসন্ধান কেন্দ্র স্থাপনের ফলে কারা এলাকায় আগত বন্দীদের আত্মীয়-স্বজন কারাগারে আটক বন্দীদের সাথে সাক্ষাত, ওকালতনামায় স্বাক্ষর, জামিন-খালাস ইত্যাদি বিষয়ে সহজেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পোশাক, ডিভিশনাল সাইন, ডিপার্টমেন্টাল সাইন ও নতুন সোল্ডার ব্যাজ ধারণঃ 
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পোশাক, ডিভিশনাল সাইন, ডিপার্টমেন্টাল সাইন ও নতুন সোল্ডার ব্যাজ ধারণের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজস্ব স্বকীয়তা ফিরে পাওয়াসহ আত্মসম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অন্য যে কোন ইউনিফর্ম ধারীদের তুলনায় নিজেদের নিয়ে গর্ববোধের সুযোগ এসেছে।

হাসপাতালের সেবা বৃদ্ধিঃ 
কারা হাসপাতালের ভর্তি রেজিষ্ট্রারে দপ্তর প্রধানের স্বাক্ষরসহ অনুমোদনের ব্যবস্থা করায় প্রকৃত রোগীরাই শুধুমাত্র কারা হাসপাতালে অবস্থান করছে। রোগের ধরন অনুসারে অসুস্থ্য ভর্তি বন্দীদের ঔষুধ, পথ্য ও খাবার সরবরাহ করা হয়।মাদ্রকসক্ত বন্দীদে কারা হাসপাতালে আলেদা তিতাস ১নং ওয়ার্ড ভর্তি রেখে সুস্থ্য করার জন্য উন্নতমানের ঔষদ পথ্য খাবার প্রদান করে থাকেন।

টেন্ডারঃ 
পূর্বে শুধুমাত্র কারা বিভাগের তালিকাভূক্ত ঠিকাদারগণই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতো কিন্তু বর্তমানে পি.পি.আর ২০০৮ ’র বিধান অনুসারে যে কোন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারছে। ফলে কারাগারের টেন্ডারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।

বে-সরকারী কারা পরিদর্শকঃ 
জেল কোড বাস্তবায়ন দেখার জন্যে কুমিল্লা জেলার ২ জন জাতীয় সংসদ সদস্যসহ ৮ জন বিশিষ্ট ভদ্রলোক এবং ৪ জন ভদ্র মহিলাসহ মোট ১২ জনের সমন্বয়ে বেসরকারী কারা পরিদর্শক নিয়োজিত রয়েছেন। তারা প্রতি সপ্তাহে সরকারকে স্বাধীনভাবে রিপোর্ট প্রদান করে যাচ্ছেন। তারা কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করে যাতে বন্দীগণ সমস্যার কথা নির্দ্বিধায়, বেসরকারী কারা পরিদর্শনকগণের নিকট পেশ করতে পারেন।

তাছাড়াও বন্দী ব্যারাক সমূহকে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ নদীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। বন্দীদের বিনোদনের জন্য সরকারীভাবে ক্যারাম বোর্ড, দাবা, লুডু, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, বই সরবরাহ করা হচ্ছে। বন্দীদের সেইভ ও চুল কাটার জন্য আলাদা সেড নির্মাণ করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।

কারাগারের বাইরে ও ভিতরে অভিযোগ বাক্স ও পরামর্শ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। কোন বন্দীকে নির্যাতন করা হলে অভিযুক্তের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষন করে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রত্যহ জামিন-খালাস প্রাপ্ত বন্দীদের তালিকা মেইন ফটকের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া হচ্ছে। দ্রুততার সাথে বন্দীর সাক্ষাৎ গ্রহণ শেষে ওকালতনামা সত্যায়নপূর্বক ফেরত দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন পবিত্র কোরআন খতম কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ভিকটিম ও শিশু বন্দীদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।মায়ের সাথে থাকা শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে তাদের জন্য শিক্ষা,খেলাধুলা ও বিনেদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুঃস্থ ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল বন্দীদের লিগ্যাল এইড কমিটি ও ব্লাষ্টের মাধ্যমে আইনী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার