গলির ভেতরে ঢুকতেই গরগর আওয়াজ। দুই পাশজুড়ে সারি সারি দর্জির দোকান। কারিগরদের একদল সেলাইয়ে ব্যস্ত। আর অন্যদল ব্যস্ত ফিনিশিংয়ে। ঘুমঘুম চোখ কচলে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টায় কেউ কেউ। এভাবেই চলছে তাদের দিন-রাত।

ঈদকে সামনে রেখে নগরের খলিফাপট্টি সারাক্ষণ এভাবে জেগে থাকছে। রোজার প্রথম দিন থেকে ইফতার আর সেহেরি বাদে ১৭ ঘণ্টা কাজ চলছে সেখানে। আড়াইশ ব্যবসায়ী প্রায় দুই হাজার শ্রমিক নিয়ে ঈদের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত। নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে শিশু ও বড়দের শার্ট-প্যান্ট এবং মেয়েদের থ্রি-পিসসহ নানা কাপড়।

যেখানে কাজ সেখানেই বিশ্রাম:

‘যেখানে রাত সেখানে কাত’ বহুল প্রচলিত এ কথাটি খলিফাপট্টিতে যেনো ‘যেখানে কাজ সেখানে কাত’ এ পরিপূর্ণতা পেয়েছে। যেসব দোকানে কারিগররা কাজ করেন সেসব দোকানেই গাদাগাদি করে যতটুকু সময় পান বিশ্রাম নেন। 

৭ নম্বর দোকানের কারিগর কফিল উদ্দিন যে জায়গায় কাজ করছেন ওই জায়গা দেখিয়ে বলেন, ‘কাজ শেষে এই জায়গায় চারজন গাদাগাদি করে বিশ্রাম নিই।’ এতো পরিশ্রম করার পরও মালিকরা বেতন কম দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

কফিল উদ্দিন বলেন, এখানে প্রতিটি দোকানের মালিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। কিন্তু প্রতিজন কারিগরকে বেতন দেন মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। 

ওই দোকানের আরেক কারিগর মো. জাকির বলেন, অন্যদের জন্য নতুন কাপড় সেলাই করলেও আমাদের ঈদ কাটে পুরোনো কাপড়ে। মালিকরা ইচ্ছে হলে বোনাস দেয়, নাহলে দেয় না। যে টাকা পাই, ওই টাকায় ভালো কাপড় কেনা যায় না।