যারা টাকা, গম, চাল মেরে খায় সে যদি আমার ছেলেও হয়, তাদের ভোট দেবেন না

Img

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই উচিত ভালো লোককে মনোনয়ন দেওয়া। যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। তাহলেই দেশের উন্নতি হবে। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে তাকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় রাখা বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। আর জনগণের প্রতি সৎ ও চরিত্রবান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, যারা টিআর, কাবিখার টাকা, গম, চাল মেরে খায়, সে যদি আমার ছেলেও হয়, তাদের ভোট দেবেন না। কোথায় ভোট দিলে আপনাদের উন্নতি হবে, কল্যাণ হবে, সেটা বুঝে-শুনেই ভোট দেবেন। যাদের কথা ও কাজে মিল রয়েছে, তাদের ভোট দেবেন।

জনপ্রতিনিধিদেরও প্রতি জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি উন্নত ভবিষ্যতের। এক সময় সমস্ত হাওর এলাকায় রাস্তাঘাট হবে। কৃষক নির্বিঘ্নে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারবে। হাওরে ফ্লাইওভার হবে। ফ্লাইওভার দিয়ে হাওরের মানুষ জেলা শহর কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এটি আমার ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন বা দিবা স্বপ্ন নয়। এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে একদিন। হয়তো সেদিন আমি থাকবো না। কিন্তু হাওরের মানুষ সে সুফল একদিন ভোগ করবে।

জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক হায়দারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে রাষ্ট্রপতি অষ্টগ্রামের সাতটি উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন করেন। সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অডিটরিয়ামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন তিনি। পাঁচদিনের সফরের প্রথম দিন তিনি অষ্টগ্রামে এলেন। মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি ইটনায় যাবেন। -বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

পূর্ববর্তী সংবাদ

মন্ত্রী মহোদয়ের কথায় মামলা হবে না: দুদক

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে কারও কথায় ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া যাবে। বৃহস্পতিবার বিকালে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইকবাল মাহমুদ এসব কথা বলেন।

সিনহার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের কথায় মামলা হবে না। তদন্তও হবে না। উনি যা বলেছেন ওটা ওনার বিষয়। দালিলিক প্রমাণ ছাড়া দুদক কারো বিরুদ্ধে তদন্ত বা অনুসন্ধান করে না।’

গত ১৩ অক্টোবর সিনহা এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে যান। পরদিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনস ১১টি গুরুতর অভিযোগের কথা জানানো হয়। বলা হয়, এসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন। এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। আর দুদক এই কাজ করবে। এক মাস পর সিনহার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

গত ৬ মে ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহজাহান ও নিরঞ্জন সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। পরে জানা যায় এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন সিনহা। তবে সিনহার বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির কোনো সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। এর মধ্যে সিনহার আত্মজীবনীমূলক বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ প্রকাশের পর সিনহাকে আক্রমণ করে আবার কথা বলছেন সরকারি দলের নেতারা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তাকে দুর্নীতিবাজ বলেছেন একাধিক আলোচনায়। এর মধ্যে দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবানের বিষয়ে এক প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের দুই ব্যক্তিকে চার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয় নিয়ে অনুসন্ধার দুদকের চলছে।’

সিনহা এই ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত কি না-জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘এটা অনেক বড় বিষয়। এ নিয়ে আমাদের বিব্রত না করাই ভালো।’ এই টাকা এসকে সিনহার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রমাণ ছাড়া আমরা কোনও মামলা করব না। দালিলিক প্রমাণ পেলে আমারা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ -ঢাকাটাইমস

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার