যশোরের শার্শা থেকে ৯ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

Img

যশোরের শার্শা উপজেলার অগ্রভূলোট সীমান্তের পাঁচ ভূলোট গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সদস্যরা।

এ সময় তারা কাউকে আটক করতে পারিনি। সোমবার বিকেলে অগ্রভূলোট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধাওয়া দিলে তারা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়।

বিজিবি জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে পাঁচ ভূলোট গ্রামের রাস্তার ওপর দুই ইয়াবা বিক্রেতা দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভারতে ইয়াবা পাচারের জন্য অপেক্ষা করছে। এ সংবাদের ভিত্তিতে অগ্রভূলোট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার হারুন অর রশিদ ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান চালালে দুই ব্যক্তি পলিথিনে মোড়ানো একটি প্যাকেট ফেলে পালিয়ে যায়। বিজিবি ফেলে যাওয়া প্যাকেটটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পর এর ভেতর থেকে ৯ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদ

খুলনার ৬ টি আসনের হাতপাখা প্রার্থীদের নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান

গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্দ্যোগে নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব ডাঃ মোখতার হোসাইন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন গতকাল ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে দেশে আরো একটি প্রহসন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৭ বছরের মধ্যে এমন প্রহসনের নির্বাচন, পরিকল্পিত কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতী কখনো দেখেনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় আমরা সেই প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি এবং সেটি ছিল একটি প্রকাশ্য ভোটার বিহীন নির্বাচন যা সারা বিশ্বের নিকট বাংলাদেশকে কলংকিত করেছে। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো একই ভাবে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন কখনই সম্ভব নয় বলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বারবার আন্দোলন করে আসলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটিও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বার বার সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা চাইলেও সরকার তা দেয়নি ফলে গতকালের চিত্রটি হয়ে উঠেছে ৫ জানুয়ারীর চেয়েও ভয়ংকর।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি সুন্দর নির্বাচনের আশায় সারা বাংলাদেশের ৩০০টি আসনেই হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী ঘোষনা করেছিল। আইনি জটিলতা দেখিয়ে আমাদের যশোর-৩ আসন এর প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। বাকী ২৯৯ আসনে হাতপাখার প্রার্থীরা প্রতিদন্দ্বিতা করে।

সেই মোতাবেক খুলনা জেলার ৬টি আসন তথা- খুলনা-১ আসনে মাওলানা আবু সাঈদ, খুলনা-২ আসনে অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খুলনা-৩ আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক, খুলনা-৪ আসনে অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, খুলনা-৫ আসনে মাওলানা মুজিবুর রহমান ও খুলনা-৬ আসনে মাওলানা গাজী নূর আহমাদ যথাক্রমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

কিন্তু অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হলো আমরা নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকে নিয়ে গতকাল নির্বাচনের দিন পর্যন্ত লেভেল প্লেইং ফিল্ড তো দূরের কথা স্বাভাবিক পোষ্টারিং, মাইকিং ও গনসংযোগ এর স্বাধীনতাটুকুও পাইনি। বিভিন্ন স্থানে আমাদের পোষ্টার ছিরে ফেলা হয়েছে, প্রচার মাইক ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে, আমাদের নেতাকর্মীদের উপর বর্বর হামলা করে অনেক নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে, নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে অফিস ভাংচুর সহ নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে নির্বাচনে একটি আতংকজনক পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে।

সর্বশেষ নির্বাচনের দিন আমাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি, অনেক কেন্দ্রে ঢুকলেও পরে তাদের বের করে দেয়া হয়, পুলিশ ও র্যা বের পাহারায় আওয়ামী ক্যাডাররা নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি করে, আমাদের ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে পর্যন্ত ঢুকতে দেয়া হয়নি, এমনকি যারা ঢুকেছে বুথ থাকা স্বত্ত্বেও তাদের হাত ধরে জোরপূর্বক প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরও আমরা খুলনা রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি তা গ্রহণে অপারগতা জানান। এমতাবস্থায় দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার সম্পন্ন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই নির্বাচন মেনে নিতে পারিনা।

তাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত খুলনা-১ থেকে খুলনা-৬ আসনের প্রার্থীরা খুলনার সকল আসনের সরকারীভাবে ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল, দলের মহাসচিব ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা মহানগর সভাপতি ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আবু সাইদ, খুলনা ৫ আসনের প্রার্থী মাওঃ মুজিবর রহমান, খুলনা ৬ আসনের প্রার্থী মাওঃ গাজী নুর আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সেক্রেটারী মুফতী আমানুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারী শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, সাবেক নগর সেক্রেটারী মুফতী মাহবুবুর রহমান, নগর জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওঃ ইমরান হোসাইন, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, নগর প্রচার সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, মোঃ আব্দুর রশিদ, আলহাজ আবু তাহের, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মুহাঃ ইমরান হোসেন মিয়া, মুহাঃ ইসহাক ফরীদি, শেখ মুহা. আমিরুল ইসলাম, মুহাঃ সাইফুল ইসলাম, এসকে নাজমুল হাসান, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার