যশোরের মণিরামপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

Img

যশোরের মণিরামপুরের যশোর-চুকনগর সড়কের ফকিররাস্তা থেকে আজ সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মণিরামপুর থানার এসআই আশরাফুল আলম বলেন, মৃত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে চলাচলের সময় যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বা শারীরিক দুর্বলতায় পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে। স্থানীয়রা লোকটিকে এলাকায় দেখেননি বলে জানিয়েছেন।

মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

খুলনায় কোরবানীর পশুর দাম আকাশছোঁয়া

ঈদুল আজহা বাকি আর মাত্র দুইদিন। এরমধ্যে ভরে গেছে খুলনার পশুর হাটগুলো। কোরবানির পশু কিনতে ভিড় জমিয়েছে মানুষ। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি। তবে দাম বেশ চড়া বলছেন ক্রেতারা। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় পশু বিক্রি করছে না বিক্রেতারা। যে কারণে এখনো জমে ওঠেনি খুলনা মহানগরীর জোড়াগেটে বসা খুলনার সবচেয়ে বড় পশুর হাট।

ক্রেতারা জানান, হাটে অনেক গরু আমদানি হলেও দাম আকাশছোঁয়া। মাঝারি আকারের গরু এক লাখ এবং ছোট গরু ৬০ হাজারের ওপরে দাম চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণের কাছাকাছি। দাম অনুযায়ী পছন্দের গরু কিনতে না পেরে অধিকাংশ ক্রেতাই খালি হাতে হাট থেকে ফিরছেন।

শনিবার বিকেল থেকে হাট পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, গত ৬ আগস্ট থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাটটি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত হাটে ৩৪৭ গরু বিক্রি হয়েছে। 

হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি। খুলনার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাটে গরু আসছে। হাটে বড় গরুর সংখ্যাই বেশি। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে মাঝারি ও ছোট আকারের গরু। হাটে এই আকারের গরু কম থাকায় দাম চাওয়া হচ্ছে বেশি।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে এখনো কোনো ভারতীয় গরু আসেনি। এজন্য দেশি গরুর দাম আকাশছোঁয়া। গত বছর যে আকারের গরু ৪০-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তার দাম ৬৫-৭০ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি। মাঝারি সাইজের একটি গরুর দাম ৯০ হাজার থেকে সোয়া লাখ টাকার ওপরে। একই অবস্থা ছাগলের ক্ষেত্রেও। সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকা দামে গত বছর যে ছাগল বিক্রি হয়েছিল, এবার তার দাম ১২-১৫ হাজার টাকা। 

হাটে নড়াইলের কালিয়া থেকে তিনটি বড় গরু এনেছেন গরু ব্যবসায়ী সালাম মুন্সি। কালো রংয়ের বিশাল আকৃতির একটি গরুর দাম চেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। অন্য দুটির দাম তিন লাখ টাকা করে চেয়েছেন তিনি। গরু তিনটির চারপাশ ঘিরে প্রচুর উৎসুক মানুষের জটলা দেখা যায়।

রূপসা থেকে অস্ট্রেলিয়ান জাতের পাটনায় ছাগল নিয়ে এসেছেন বিক্রেতা শাহাজাহান মিয়া। তার ছাগলই এবারের হাটের সেরা ছাগল। তিনি ওই ছাগলের দাম হাঁকিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। 

দিঘলিয়ার লখহাটি সাদা রঙের বিদেশি জাতের সেরা গরুটি নিয়ে এসেছেন ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান,  তার গরু এখনো হাটের সেরা গরু। তিনি তার গরুর দাম হাকিয়েছেন ১১ লাখ টাকা। দাম উঠেছে ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তাতে তিনি বিক্রি করতে রাজি হননি। অন্তত ৮ লাখ টাকা দাম উঠলে বিক্রি করবেন।

হাটে গরু কিনতে আসা শেখপাড়া এলাকার লৌহ ব্যবসায়ী ইউসুফ হোসেন বলেন, বাজার দর থেকে গরুর দাম অনেক বেশি। হাট ঘুরে দেখছি, দামে না পোষালে চলে যাবো। শেষ রাতে আবার আসবো। 

কেসিসির হাট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, হাটে অনেক গরু আসছে। ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। সাধারণত প্রথম দিকে গরুর দাম চড়া থাকে, ধীরে ধীরে সহনীয় পর্যায়ে আসে। শনিবার বিকেল থেকে হাট পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার