যশোরের ঝিকরগাছায় বৃদ্ধ খুন

Img

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মইনউদ্দীন গাজী (৯০) নামে এক বৃদ্ধের নিহত হয়েছেন। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন গাজী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশি ইসহক আলীর সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সোমবার সকাল নয় টায় মইনউদ্দীন গাজী তার জমির সীমানা নির্ধারণ করছিলেন। এ সময় ইসহক আলীর ছেলে আশদুল ইসলাম তার পিতাকে লাথি মেরে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।

এ ঘটনাস্থলেই নিহত হন মইনউদ্দীন গাজী। পরে পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দিলে দুপুর দুই টায় ঝিকরগাছা থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম লাশ উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

এসআই সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের আটকে অভিযান চলছে।

পূর্ববর্তী সংবাদ

খুলনায় শাহজালাল চোখ হারালো, সাজাও পেলো

খুলনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় চোখ হারানো যুবক মো. শাহজালালকে ছিনতাই মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) বিকেলে খুলনার মহানগর হাকিমের বিচার আদালত-১ (দ্রুত বিচার) এর বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর শাহজালালকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শাহজালালের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমার ছেলের চোখ নিলো, ছেলেকে অন্ধ বানালো এবার তাকে জেলেও ঢোকালো। গরিবের ওপর এমন অত্যাচার, আল্লাহ সহ্য করবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেড় লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে খুলনার খালিশপুর থানা পুলিশ তার ছেলের চোখ তুলে ফেলেছে।

তবে পুলিশের দাবি, ছিনতাইকালে জনতার পিটুনিতে চোখ হারিয়েছেন শাহজালাল।

২০১৭ সালের ১৮ জুলাই মহানগরীর খালিশপুর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাহজালালকে আটক করে খালিশপুর থানা পুলিশ। পরদিন ভোরে চোখ তুলে ফেলা অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছিনতাইয়ের ঘটনায় সোমা বিশ্বাস নামের এক নারী শাহজালালকে আসামি করে খালিশপুর থানায় ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।

এদিকে শুরু থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে চোখ তুলে ফেলার অভিযোগ করে শাহজালালের পরিবার। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খানসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন শাহজালালের মা রেনু বেগম। মামলাটি নিম্ন আদালত খারিজ করে দিলে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়াসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ করে শাহজালালের পরিবার।

শাহজালালের আইনজীবী মো. নুরুল হক বলেন, ছিনতাই মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শাহজালাল। তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করা যায়নি। তারপরও তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় প্রভাবিত করা হয়েছে। নিম্ন আদালতে শাহজালালের সাজা দেওয়া গেলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উচ্চ আদালতে টিকবে না। এসব কারণে এমনটা করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার